
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ত্বক দেখে কি মন খারাপ হচ্ছে? পুজোর টানা কয়েক দিনের আনন্দ, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, আর ভারী মেকআপের পর এখন অনেকেরই ত্বকের হাল বেশ বেহাল! মুখের সেই ঝলমলে জেল্লা যেন একেবারে উধাও। ধুলোবালি আর দূষণে ত্বক হয়ে উঠেছে রুক্ষ, শুষ্ক এবং ক্লান্ত। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ না করেও, রোজকার রুটিনে মাত্র ৫টি সহজ বদল আনলেই ত্বক আবার আগের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে।
কী কী করবেন?
হালকা ক্লিনজার
মেকআপ ঠিকমতো না তুললে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ মেকআপ থাকার ফলে কোষে ধুলো ও তেল জমে যায়। তাই সকাল এবং রাতে মুখ ধোয়ার জন্য একটি হালকা বা মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা ভীষণ জরুরি। প্রথমে ভালো মেকআপ রিমুভার দিয়ে মুখের ময়লা তুলে নিতে হবে। তবে খুব কড়া ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে ত্বক আরও বেশি শুকিয়ে যায়।
ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের নরম ভাব ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প নেই। মুখ ধোয়ার পর ত্বক যখন সামান্য ভিজে থাকবে, ঠিক তখনই এটি মেখে নিন। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে একটু ঘন ক্রিম এবং তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ধরনের ময়েশ্চারাইজার দারুণ কাজ করে। ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তবে সুগন্ধি ছাড়া প্রসাধনী বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড
হারানো আর্দ্রতা নিমেষে ফিরিয়ে আনতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি ত্বকের গভীরে জলের পরিমাণ ঠিক রাখে, ফলে মুখ অনেক বেশি সতেজ দেখায়। তবে এটি মাখার পর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। আর নতুন কোনও ক্রিম মাখার আগে একটু প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া সবসময় নিরাপদ।
সানস্ক্রিন
দিনের বেলায় বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিন মাখাটা একেবারেই বাধ্যতামূলক। অন্তত এসপিএফ ৩০ (SPF 30) আছে, এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বক রক্ষা পায়। রোদে বেশি ঘামলে কয়েক ঘণ্টা অন্তর নিয়ম মেনে আবার সানস্ক্রিন মেখে নেওয়া উচিত।
প্রচুর জল আর পর্যাপ্ত বিশ্রাম
ত্বককে এই সময় একটু স্বস্তি দেওয়া প্রয়োজন। পার্লারে গিয়ে নানা রকমের ফেশিয়াল বা কড়া স্ক্রাব ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এর চেয়ে বরং প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া, পুষ্টিকর খাবার আর পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দেওয়া দরকার। ত্বকে যদি কখনও লালচে ভাব বা জ্বালা দেখা দেয়, তবে নিজে ডাক্তারি না করে সরাসরি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।