
ওজন কমানো (Weight Loss) যেন এক অন্তহীন যুদ্ধ। মেদ ঝরাতে অনেকেই জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরান, কেউ আবার পছন্দের সব খাবার ত্যাগ করে ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করে দেন। কিন্তু এত কষ্টের পরেও কি মনের মতো ফল মিলছে? আসলে, ওজন কমার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্যে। লাইফস্টাইলের কিছু সাধারণ ভুলভ্রান্তির কারণেই থমকে যায় মেদ ঝরার প্রক্রিয়া। আজ থেকেই যদি রোজকার রুটিনে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন, তবে কোনও বাড়তি মানসিক চাপ ছাড়াই শরীরকে ফিট ও চাঙ্গা রাখা সম্ভব।
জেনে নিন এমন ৭টি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী অভ্যাসের কথা, যা দ্রুত ওজন কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে:
১.দিনের শুরুতেই ধোঁয়া ওঠা চা বা কফির কাপে চুমুক দেওয়া অনেকেরই স্বভাব। তবে মেদ ঝরাতে চাইলে এই অভ্যাস বদলানো জরুরি। সকালের জলখাবারে রাখুন ডিম, টক দই, দুধ, পনির বা ডালের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার। গবেষণা বলছে, প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দেয় এবং পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অসময়ে আজেবাজে জিনিস খাওয়ার প্রবণতা একধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়।
২. বিখ্যাত স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথলাইন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুরের বা রাতের প্রধান খাবার খাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস জল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। এতে শরীর যেমন হাইড্রেটেড থাকে, তেমনই পাকস্থলী আংশিক পূর্ণ থাকায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার (Overeating) ঝুঁকি কমে যায়।
৩. এক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার অভ্যাস ওজন বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই জিম না করলেও সারাদিন শরীরকে কোনও না কোনও উপায়ে সচল বা অ্যাক্টিভ রাখুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, কাজের ফাঁকে একটু উঠে দাঁড়ানো বা হালকা স্ট্রেচিং করার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপও ক্যালোরি ঝরাতে দারুণ সাহায্য করে।
৪.অফিসের টেবিলে বা বাড়িতে বসে কাজের ফাঁকে চিপস, বিস্কুটে কামড় দেওয়া আমাদের চেনা অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘আনমাইন্ডফুল স্ন্যাকিং’ ওজন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাই মুখে কিছু তোলার আগে মাত্র এক মিনিট ভাবুন, সত্যিই কি আপনার খিদে পেয়েছে নাকি এটা শুধুই মনের ইচ্ছে? এই একটি প্রশ্নের উত্তরই আপনাকে অনেক বাড়তি ক্যালোরি গ্রহণ থেকে বাঁচিয়ে দেবে।
৫. খিদে পেলে হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, মানুষ সেটাই খেয়ে ফেলে। এই সমস্যার সমাধানে ফল, ড্রাই ফ্রুটস বা পুষ্টিকর স্ন্যাকস এমন জায়গায় রাখুন যা সহজেই চোখের সামনে পড়ে। উল্টোদিকে, ভাজাভুজি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস চোখের আড়ালে রাখুন। সামনে ভালো খাবার থাকলে অস্বাস্থ্যকর জিনিস খাওয়ার ইচ্ছে এমনিতেই মরে যায়।
৬. খুব দ্রুত খাবার শেষ করার অভ্যাস পরিপাক ক্রিয়ার দফারফা করে দেয়। খাবার সবসময় ভালো করে চিবিয়ে এবং সময় নিয়ে খাওয়া উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং পেট যে ভরে গিয়েছে, সেই সংকেত মস্তিষ্ক দ্রুত পায়। ফলে কম খেয়েও তৃপ্তি আসে।
৭.দুপুর বা রাতে ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই বিছানায় শুয়ে পড়ার অভ্যাস মারাত্মক ক্ষতিকর। এর বদলে খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট হালকা পায়চারি বা ওয়াক করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরে মেদ জমার সুযোগ পায় না।