AC Thermal Shock Lungs Damage: রোদ থেকে ফিরেই এসি ঘরে ঢুকছেন? ফুসফুসে কী কী ঘটছে জানলে চমকে যাবেন

Sudden temperature change risks from AC exposure: তীব্র গরম থেকে ফিরে আচমকা এসি ঘরে ঢুকলে শ্বাসনালীতে থার্মাল শক লাগতে পারে। ফুসফুসের এই মারাত্মক ক্ষতি ও ব্রঙ্কোস্প্যাজমের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেন ডঃ সৌম্য গায়েন (সহকারী অধ্যাপক , প্লাষ্টিক সার্জারি ,উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)।

AC Thermal Shock Lungs Damage: রোদ থেকে ফিরেই এসি ঘরে ঢুকছেন? ফুসফুসে কী কী ঘটছে জানলে চমকে যাবেন
শরীরের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ কীভাবে ভেঙে পড়ে?Image Credit source: chat gpt

May 21, 2026 | 1:09 PM

বাইরে মাথার ওপর গনগনে রোদ, আর পারদ চল্লিশের ঘর ছুঁই ছুঁই। এই তীব্র গরম থেকে অফিস বা বাড়ি ফিরে সোজা এসি চালিয়ে তার সামনে বসে পড়া কিংবা মেট্রো বা শপিং মলের কনকনে ঠান্ডা আবহে ঢুকে পড়া, অনেকেরই চেনা অভ্যাস। কিন্তু এই সাময়িক আরাম যে ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ওপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, সেই বিষয়ে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই আকস্মিক তাপমাত্রার পরিবর্তনজনিত ধকলকে বলা হয় ‘থার্মাল শক’। এই বিষয়ে সতর্ক করে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার সৌম্য গায়েন সরাসরি জানিয়েছেন, গরম থেকে হঠাৎ এসির ঠান্ডায় ঢুকলে শ্বাসনালীর ভেতরে এক বিধ্বংসী পরিবর্তন ঘটে।

শরীরের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ কীভাবে ভেঙে পড়ে?

মানুষের শরীরে বাতাস প্রবেশের একটি স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। ডাক্তার গায়েন জানান, মাত্রাতিরিক্ত গরমে আমাদের দেহে প্রথমে যে হাওয়া প্রবেশ করে, তা নাসিকা গহ্বর বা নেজাল সাইনাসগুলোর মাধ্যমে ভেতরে যায়। এরপর নেজোফ্যারিংস এবং ওরোফ্যারিংস হয়ে ট্র্যাকিয়ার মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায়। নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেনের কাজ হল অতিরিক্ত ঠান্ডা ও শুকনো হাওয়াকে কিছুটা জলীয় এবং গরম করে ফুসফুসের উপযোগী করে তোলা।

কিন্তু বাংলার মতন অতিরিক্ত আর্দ্রতা প্রধান আবহাওয়ায় হঠাৎ এই তাপমাত্রা বদলে গেলে শরীরের এই স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ আর কাজ করতে পারে না। চিকিৎসকের মতে, বাইরের অসহনীয় আর্দ্রতার সঙ্গে আমাদের নেজাল সাইনাসের মিউকাস মেমব্রেনগুলো মানিয়ে নেয়। ডঃ সৌম্য গায়েন (সহকারী অধ্যাপক , প্লাষ্টিক সার্জারি ,উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল) বলেন, “এই অভিযোজনটা করার পর হঠাৎ যদি সেটা একটা ঠান্ডা পরিবেশে পৌঁছয় এবং এই চেঞ্জটা যদি অত্যন্ত দ্রুত হয়, তাহলে নেজাল মেমব্রেনের মিউকাসগুলো হঠাৎ করে সিক্রেশন বন্ধ হয়ে যায়।” ফলে ঠান্ডা হাওয়া নাককে আরও শুকনো করে দিয়ে সরাসরি ফুসফুসের ব্রঙ্কিওলস-এ পৌঁছে যায়।

ফুসফুসের গভীরে এই শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া আচমকা ঢুকে পড়লে শ্বাসনালী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। ডাক্তার গায়েন বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেছেন, এসি ঘরে প্রবেশ করার আগে পর্যন্ত ব্রঙ্কিওলসগুলো যে আর্দ্র ও গরম হাওয়া পাচ্ছিল, তা হঠাৎ এসির ঠান্ডা সংস্পর্শে আসায় ‘ব্রঙ্কোস্প্যাজম’ ঘটে। চিকিৎসকের ভাষায়, “ব্রঙ্কোস্প্যাজম হয়ে যায় মানে চট করে সংকুচিত হয়ে যায় এবং বন্ধ হয়ে যায়। এই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ফুসফুসে যেমন অক্সিজেনযুক্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে না, তেমনি কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত বাতাসও ওখান থেকে বেরোতে পারে না।”

এর ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড জমতে শুরু করে, যা শরীরকে বিপন্ন করে তোলে। ড: গায়েনের মতে, “দেহে অক্সিজেনের মাত্রা যেমন কমতে থাকে, তেমনি কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রাও বাড়তে থাকে। তাই এই ব্রঙ্কোস্প্যাজমে প্রথমে কাশি, তারপরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।”

এই মারাত্মক বিপদ বা ‘থার্মাল শক’ থেকে বাঁচতে ডাক্তার গায়েন কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:

ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়া: রোদ থেকে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে এসির ঠান্ডা ঘরে ঢোকা যাবে না। প্রথমে ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় বসে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে হবে।

এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: এসি ঘরের তাপমাত্রা কখনোই অত্যন্ত কমিয়ে রাখা উচিত নয়। ঘরের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখলে শরীর সহজে বাইরের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে।

বাইরে বেরোনোর আগেও সতর্কতা: ঠিক একইভাবে এসি ঘর থেকে হঠাৎ করে কড়া রোদে বেরোনোও ক্ষতিকর। বেরোনোর কিছু সময় আগে এসি বন্ধ করে ঘরের পরিবেশ স্বাভাবিক হতে দেওয়া দরকার।

 

 

Follow Us