
সদ্যোজাতর নরম ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে অনেকেই অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু করে ফেলেন, যা আসলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। মা-বাবাদের কাছে এখন ‘বেবি ওয়াইপস’ এক অপরিহার্য বস্তু। বারবার ডায়াপার বদলানো আর ঝটপট পরিষ্কার করার জন্য এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী-ই বা আছে! কিন্তু এই অতিরিক্ত ওয়াইপস ব্যবহার আপনার আদরের সন্তানের ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা কবচ বা ‘স্কিন মাইক্রোবায়োম’ নষ্ট করে দিচ্ছে না তো? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বিপদের সংকেত দিচ্ছেন।
কেন বারবার ওয়াইপস ব্যবহার বিপজ্জনক?
অ্যাস্টার আরভি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের মতে, শিশুর ত্বক বড়দের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। বারবার ওয়াইপস দিয়ে ঘষলে ত্বকের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত স্তর বা লিপিড লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই স্তরটিই আসলে বাইরের ধুলোবালি বা ইনফেকশন থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যখনই ওয়াইপস দিয়ে ঘষছেন, তখন সেই আর্দ্রতা হারিয়ে গিয়ে ত্বক হয়ে পড়ছে খসখসে ও শুষ্ক।
শিশুর ত্বকের ওপর এক ধরণের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার আস্তরণ থাকে, যাকে বলা হয় মাইক্রোবায়োম। ডায়পার পরানো অংশটি সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে, যা এমনিতেই স্পর্শকাতর। অনেক নামী ব্র্যান্ডের ওয়াইপসে অ্যালকোহল, প্রিজারভেটিভ বা সুগন্ধি মেশানো থাকে। বারবার এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে ওই উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোই মারা যায়। ফলে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে র্যাশ, একজিমা বা সেকেন্ডারি ইনফেকশনের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এমনকি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে শিশুদের ক্ষেত্রে সুগন্ধিযুক্ত ওয়াইপস বেশি ব্যবহার করা হয়, তাদের মধ্যে ‘ডায়পার ডার্মাটাইটিস’ বা চর্মরোগের প্রবণতা অনেক বেশি।
সমাধানের উপায় কী?
তাহলে কি ওয়াইপস একদমই ব্যবহার করবেন না? বিশেষজ্ঞের মতে, পুরোপুরি ব্যবহার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে অভ্যাসে বদল আনা জরুরি।
ডায়পার বদলানোর পর নতুন ডায়পার পরানোর আগে কিছুক্ষণ জায়গাটি খোলা রাখুন। ত্বককে স্বাভাবিক হাওয়ায় শুকোতে দিন।
ঘরে থাকাকালীন ওয়াইপসের বদলে হালকা গরম জল আর নরম সুতির কাপড় ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের ঘর্ষণ কম হয়।
যদি ওয়াইপস ব্যবহার করতেই হয়, তবে এমন কিছু বাছুন যাতে জলের পরিমাণ বেশি এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা ফ্রেগ্রেন্স নেই। পিএইচ (pH) ব্যালেন্সড ওয়াইপস এক্ষেত্রে কিছুটা নিরাপদ।
ডায়পার পরানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভালো কোনও ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বকের ওপর আলাদা সুরক্ষা স্তর তৈরি করবে।
মনে রাখবেন, শিশুর হাসিমুখ ধরে রাখতে তার ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখাই আসল ম্যাজিক। তাই বিজ্ঞাপনের চটকদারী প্রোডাক্টের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক যত্নেই বড় করুন আপনার সন্তানকে।