
ঋতু পরিবর্তনের সময় সকাল-সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা, দুপুরে গরম, কখনও আবার বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই ওঠানামার প্রভাব পড়তে পারে শরীরেও। সর্দি-কাশি, গলায় খুসখুস, বুকে কফ জমা থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা—বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া প্রতিকারের প্রসঙ্গে উঠে আসছে পানপাতার কথা। পুজো-পার্বণ কিংবা অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহৃত এই পরিচিত পাতাটি বহুদিন ধরেই লোকাচার ও প্রচলিত ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
গলায় খুসখুস বা কাশির অস্বস্তি কমাতে পানপাতার সঙ্গে কয়েকটি গোলমরিচ, এক-দু’টি তুলসীপাতা এবং সামান্য মিছরি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে ঘরোয়া টোটকায়। তবে এই মিশ্রণ চিবিয়ে খেলে কাশি সেরে যায়, এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পেট ফাঁপা, ভারী ভাব কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় পানপাতা ও জোয়ানের ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে দুই-তিনটি পানপাতা জলে দিয়ে তার সঙ্গে জোয়ান মিশিয়ে ফুটিয়ে জল অর্ধেক করে নিতে হবে। এরপর সেই জল অল্প অল্প করে পান ক করতে হবে। কিন্তু এতে হজমের সমস্যা কমবে তা নিশ্চিত নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ঘরোয়া মিশ্রণ দেওয়া উচিত নয়।
আবহাওয়ার পরিবর্তনে কারও কারও গাঁটে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতিতে পানপাতায় সামান্য সর্ষের তেল মাখিয়ে হালকা গরম করে ব্যথার জায়গায় সেঁক দেওয়ার কথা বলা হয়। কেউ কেউ এর সঙ্গে হলুদও ব্যবহার করেন। তবে এই পদ্ধতিতে ব্যথা বা ফোলাভাব কমবেই, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। গাঁটে ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সতর্কতা জরুরি
পানপাতার কিছু উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে গবেষণা থাকলেও, ঘরোয়া টোটকাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সর্দি-কাশি বাড়তে থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শিশুর বুকে কফ জমে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি সুপারি, চুন ও তামাক মিশিয়ে পান খাওয়ার সঙ্গে সাধারণ পানপাতার ব্যবহারকে এক করে দেখা উচিত নয়। বিশেষত তামাক ও সুপারিযুক্ত পান স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।