
কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ভূত চতুর্দশীতে ঘরে ঘরে ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম মা-ঠাকুমার আমল থেকেই চলে আসছে। কিন্তু এই নিয়মের ফাঁকেই ঘরে ঘরে ঘটে দারুণ সব মজার কাণ্ড! ধরুন, নতুন বিয়ে হয়ে আপনি গিয়েছেন শ্বশুরবাড়ি। আর এসেই প্রথম পরীক্ষার মুখে, আজ দুপুরের মেনুতে ১৪ শাক আপনাকে নিজ হাতে রাঁধতে হবে! তখন বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করাটা কি আর অস্বাভাবিক? আবার কিছু মানুষ এমনও আছেন, যাঁরা সারা বছর জীবনে কোনো দিন রান্নাঘরের চৌকাঠ পার করেননি, খুন্তি কী জিনিস সেটাই হয়তো ভালো করে চেনেন না, অথচ ভূত চতুর্দশী আসতেই বুক ফুলিয়ে বলে বসলেন যে, এ আবার এমন কী কঠিন কাজ! এ বছর ১৪ শাকটা তিনি একা হাতে রাঁধবেন! তারপর রান্নাঘরে ঢুকে শাকের বদলে মশলার কৌটো উল্টে ফেলে মাথায় হাত!
তবে যতই হাঁসফাঁস করুন না কেন, শ্বশুরবাড়ির সবাইকে তাক লাগিয়ে ‘হেঁশেলের হিরো’ হওয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ! আর আপনার সেই মিশন সাকসেসফুল করতে রইল একদম সোজা সাপটা ভাষায় ১৪ শাক রান্নার মজার ও সহজ গাইড।
কোন চৌদ্দটি শাক থাকে এতে?
শাক তো বাজার থেকে নিয়ে এলেন, কিন্তু কোনগুলো যে সেই ১৪টি মহারথী, তা একবার দেখে নেওয়া ভালো! ঐতিহ্য অনুযায়ী এর মধ্যে থাকে— ১. ওল শাক, ২. কেঁউ শাক, ৩. বেতো শাক, ৪. কালকাসুন্দে, ৫. সর্ষে শাক, ৬. নিম পাতা, ৭. জয়ন্তী শাক, ৮. শাঞ্চে শাক, ৯. গুলঞ্চ পাতা, ১০. পলতা পাতা, ১১. ঘেঁটু বা ভাঁট পাতা, ১২. হিঞ্চে শাক, ১৩. সুষনি শাক এবং ১৪. শালুকা পাতা।
কী কী লাগবে রান্নার জন্য?
(টিপস: কেউ যদি নিরামিষ করতে চান, তবে পেঁয়াজ-রসুন বাদ দিলেও শাকের স্বাদ কমবে না!)
ধাপে ধাপে রান্নার পদ্ধতি
ব্যস! আপনার হাতের জাদুতে ১৪ শাক একদম রেডি। এবার গরম গরম ভাতের থালায় এটি বাড়িয়ে দিন আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চোখ কপালে তুলে দিয়ে বলুন— “কে বলেছে আমি রান্না পারি না!”