
বাঙালির খাওয়ার পাতে আর যা-ই থাক, একটু ডাল না হলে ঠিক তৃপ্তি আসে না। ডাল যেন বাঙালির পরম স্বস্তির জায়গা! পুজোর (Durga Puja) আনন্দ মানেই জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু টানা ঠাকুর দেখার পর, রোজ রোজ বাইরের তেল-মশলাদার খাবার খেতে কি আর ভালো লাগে? প্যান্ডেল হপিং শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়িতে ফিরে মন চায় এমন কিছু খেতে, যা পেটে আরাম দেবে, আবার জিভেও জল আনবে। সাধারণ ডাল-ভাতে অরুচি এলে এই পুজোর মরশুমে বানিয়ে দেখতে পারেন বাঁধাকপি দিয়ে মসুর ডাল (Cabbage Masoor Dal)। ডালের সঙ্গে বাঁধাকপি আর কিছু মশলার জাদুতে এমন একটা স্বাদ তৈরি হবে, যা দিয়ে নিমেষেই এক থালা গরম ভাত শেষ হয়ে যাবে। রুটি বা পরোটার সঙ্গেও এই ডাল খেতে দারুণ লাগে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই সুস্বাদু পদটি রাঁধতে খুব বেশি খাটনি নেই। বাড়িতে থাকা সাধারণ জিনিস দিয়েই পুজোর ব্যস্ততার মাঝে চটজলদি কাজ হয়ে যাবে।
রান্নার সহজ পদ্ধতি
প্রথমেই মসুর ডাল খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার সামান্য হলুদ আর নুন দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন, ডাল যেন একেবারে গলে কাদাকাদা না হয়ে যায়। অন্য একটি কড়াইতে অল্প সর্ষের তেল গরম করুন। তাতে সামান্য নুন ছড়িয়ে কুচিয়ে রাখা বাঁধাকপি হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন।
এবার আসল ম্যাজিক শুরু! কড়াইতে পরিমাণমতো তেল দিয়ে তাতে গোটা জিরে, তেজপাতা আর শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। পেঁয়াজ ভাজা হয়ে এলে আদা-রসুন বাটা ও কেটে রাখা টমেটো দিয়ে দিন। টমেটো নরম হতে শুরু করলে হলুদ, জিরে, ধনে ও লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে মশলাটা খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলেই সেদ্ধ করে রাখা ডাল ঢেলে দিন। ডাল ফুটতে শুরু করলে আগে থেকে ভেজে রাখা বাঁধাকপি এবং চেরা কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিন। নিজের স্বাদ অনুযায়ী নুন ও চিনি চেখে নিন। এবার মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ফুটতে দিন। ডাল বেশ ঘন হয়ে এলে উপর থেকে গরম মশলা ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ব্যাস, পুজোর স্পেশাল বাঁধাকপি-মসুর ডাল একেবারে তৈরি। বাড়িতে কখনও ট্রাই না করে থাকলে এই উৎসবের মরশুমে আজই বানিয়ে ফেলুন।