
প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর দূষণের ভিড়ে শরীরের অনেক কিছুরই খেয়াল রাখা হলেও, অবহেলায় থেকে যায় প্রধান প্রাণভোমরা—ফুসফুস। অথচ এই ফুসফুসের ক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র পর্যন্ত। সিঁড়ি দিয়ে দু-পা উঠলেই কি হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে? নাকি অল্প পরিশ্রমেই বুক ধড়ফড় করছে? ফুসফুস কতটা লড়াই করার ক্ষমতা রাখে, ঘরে থাকা অতি সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই বুঝে নেওয়া সম্ভব শ্বাসযন্ত্রের হালহকিকত।
বোতল আর পাইপ
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফুসফুসের বাতাস ছাড়ার ক্ষমতাকে বলা হয় ‘ফোর্সড ভাইটাল ক্যাপাসিটি’ বা FVC। এটি পরীক্ষা করার জন্য বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে একটি ছোট ল্যাবরেটরি। লাগবে একটি ৫ লিটারের প্লাস্টিক বোতল, বালতি আর একটা রাবারের পাইপ। বোতলে জল ভরে তাতে ২০০ মিলিলিটার অন্তর দাগ কেটে নিতে হবে। এবার বালতিতে জল ভরে বোতলটি উল্টো করে ডুবিয়ে ধরতে হবে। পাইপের এক প্রান্ত বোতলে ঢুকিয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে সজোরে ফুঁ দিতে হবে। এক ফুঁয়ে বোতল থেকে যতটা জল বের করা সম্ভব, সেটাই ফুসফুসের আসল জোর। সুস্থ ফুসফুসের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অন্তত ৩ থেকে ৫ লিটার হওয়া উচিত।
ঘড়ি ধরে ১১ সেকেন্ডের চ্যালেঞ্জ
যদি বোতল টেস্ট ঝামেলার মনে হয়, তবে রয়েছে আরও সহজ উপায়। বড় করে শ্বাস নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে সেই শ্বাস ছাড়তে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কতক্ষণ ধরে শ্বাস ছাড়া যাচ্ছে। যদি অন্তত ১১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় ধরে স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস ছাড়া যায়, তবে বুঝতে হবে ফুসফুস বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ফুসফুসের ক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে এই কমার হার যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়।
ফুসফুস ভালো রাখবেন কীভাবে?
ফুসফুস ভালো রাখার জন্য লাইফস্টাইলে ছোট কিছু বদল আনা। শরীরচর্চা তো আছেই, তবে চিকিৎসকদের মতে গান গাওয়া ফুসফুসের পেশি মজবুত করার দারুণ এক উপায়। এছাড়া খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডায়েট মেনে চলা জরুরি। মনে রাখতে হবে, পেটের মেদ বাড়লে ফুসফুস পুরোপুরি প্রসারিত হতে বাধা পায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কখন সতর্ক হতে হবে?
বাড়ির এই পরীক্ষাগুলো প্রাথমিক ধারণার জন্য ভালো, কিন্তু এগুলোই চূড়ান্ত নয়। যদি দেখা যায় সমতলে হাঁটতে গিয়েও দম ফুরিয়ে গিয়েছে বা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস ধরে রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।