
গরমকাল মানেই হাঁসফাঁস দশা। এই সময় রান্নাঘরে বেশিক্ষণ থাকলেই ঘাম আর বিরক্তি। তাই অনেকেই একবারে অনেকটা রান্না করে ফ্রিজে তুলে রাখেন। খিদে পেলেই চটপট ফ্রিজ থেকে বের করে ওভেনে গরম করে নিলেই ঝামেলা মুক্তি! কিন্তু আপনি কি জানেন এই অভ্যাসই অজান্তে আপনার শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনছে?
চিকিৎসকরা বলছেন, ফ্রিজের খাবার বারবার গরম করে খাওয়া বা ভুল পদ্ধতিতে গরম করা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি এর ফলে খাবারের স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনই তার পুষ্টিগুণেরও ১২ টা বাজে।
কেন বারবার গরম করা ক্ষতিকর?
আসলে অনেক খাবার একবার রান্না করার পর তার রাসায়নিক গঠন বদলে যায়। বিশেষ করে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগির মাংস বা মাশরুম একবারের বেশি গরম করা একেবারেই উচিত নয়। এতে নাইট্রোজেন ঘটিত বিষক্রিয়া হতে পারে যা পেটের সমস্যা তৈরি করে। এ ছাড়াও শাক বা বিটের মতো সবজি বারবার গরম করলে তাতে থাকা নাইট্রেট নাইট্রোসামিনে রূপান্তরিত হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ফ্রিজের খাবার খাওয়ার সময় কোন ভুল গুলো এড়িয়ে চলবেন?
বারবার গরম করা: একটা তরকারি ফ্রিজ থেকে বের করে পুরোটা গরম করলেন, তারপর আবার বাকিটা ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখলেন— এই অভ্যাসটি সবথেকে বিপজ্জনক। এর ফলে ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই বের করে গরম করুন।
সরাসরি আঁচে বসানো: একদম ঠান্ডা খাবার ফ্রিজ থেকে বের করেই কড়াইতে বা ওভেনে চাপিয়ে দেবেন না। এতে খাবারের বাইরের অংশ গরম হলেও ভেতরে ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বের করার অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে তবেই গরম করুন।
মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে সতর্কতা: মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় কাচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করলে কার্সিনোজেনিক উপাদান খাবারে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সঠিক তাপমাত্রা: খাবার গরম করার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে সেটি অন্তত ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত পৌঁছায়। এর ফলে ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়াগুলো মরে যায়।
দিনের পর দিন বাসি খাবার খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের রোগ পর্যন্ত হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে এই ব্যস্ততার যুগে যদি ফ্রিজের খাবার খেতে হয় তাহলে সঠিক নিয়ম মেনে খান।