
আপনার কি অনেক সময় বিনা কারণেই ক্লান্ত লাগে? একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠেন বা মাথা ঘোরে? অনেকেই ভাবেন এগুলো কাজের চাপ বা সাধারণ দুর্বলতার লক্ষণ। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ লক্ষণগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ! বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ, রোজকার কাজও করছেন দিব্যি। কিন্তু শরীরের ভিতরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, কোনও আগাম জানান না দিয়েই এই রোগ হার্ট ও রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে।
কী বলছেন চিকিৎসক?
ম্যাক্স হাসপাতালের (দ্বারকা) ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড: অমিত পেন্ধারকর জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে চিন্তার দিকটি হল এর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে না। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা বা ক্লান্তি, এই উপসর্গগুলো ব্লাড প্রেশার বাড়লে হতে পারে ঠিকই, কিন্তু অন্য অনেক সাধারণ কারণেও এমনটা হওয়া সম্ভব। অনেকেই ভাবেন, শরীরে কষ্ট হলে তবেই বুঝি প্রেশার বেড়েছে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। কোনও লক্ষণ ছাড়াই এই রোগ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনির বড় ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই কষ্ট শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বোকামি।
তা হলে রোগ ধরবেন কীভাবে? উত্তরটা খুব সোজা, নিয়মিত রক্তচাপ মাপা। বাড়িতে ভালো মানের ব্লাড প্রেশার মেশিন রেখে বা কাছের কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রেশার চেক করিয়ে নিন। এতে কয়েক মিনিট সময় লাগে মাত্র। তবে মেশিনে একবার প্রেশার বেশি দেখালেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। কাজের চাপ, শারীরিক পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা বা কফি খাওয়ার কারণেও সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে, বারবার মেপে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বয়স এবং স্বাস্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ মাপা সবার জন্যই জরুরি। পরিবারে হাই প্রেশার, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছুটা বদল আনা দরকার। রোজ নিয়ম করে ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করা, খাবারে নুনের পরিমাণ কমানো, ওজন ঠিক রাখা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম ভীষণ জরুরি। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা আজই ছেড়ে দিন।
মনে রাখবেন, শরীরে কোনও কষ্ট নেই বা ভালো অনুভব করছেন মানেই ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। আজকের একটুখানি সচেতনতাই পারে আপনার হার্টকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে।