AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

৩০ দিন চা ছুঁয়েও দেখেননি দিল্লির এক তরুণী! ১ মাস পর শরীরে যা ঘটল তা অবাক করে দেওয়ার মতো

দিল্লির ২৭ বছর বয়সী পল্লবীর গল্পটাও ঠিক একই রকম ছিল। নয়ডার একটি বড় কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত পল্লবী নিজেও জানতেন না যে অফিসের কাজের ফাঁকে সারাদিনে কত কাপ বাইরের চা তাঁর পেটে চলে যেত। কিন্তু একদিন তিনি নিজেই এই অভ্যাসে রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই ভাবনা থেকেই বেছে নেন এক অভিনব চ্যালেঞ্জ— ‘টানা ৩০ দিন বাইরের দোকানের চা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলে কী হয়?’ মাত্র এক মাস পর তাঁর শরীরে এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে যে পরিবর্তন এল, তা দেখে চমকে গিয়েছেন সকলেই।

৩০ দিন চা ছুঁয়েও দেখেননি দিল্লির এক তরুণী! ১ মাস পর শরীরে যা ঘটল তা অবাক করে দেওয়ার মতো
| Updated on: Jun 26, 2026 | 8:13 PM
Share

এক কাপ গরম চা… অনেকেরই দিনটা শুরু হয় না এর স্বাদ ছাড়া। আবার অফিসে কাজের চাপ একটু বাড়লেই ডাক পড়ে চায়ের। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হোক কিংবা কাজের ক্লান্তি দূর করা— দিনে ৪-৫ কাপ চা খাওয়া আজকের দিনে অত্যন্ত সাধারণ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির ২৭ বছর বয়সী পল্লবীর গল্পটাও ঠিক একই রকম ছিল। নয়ডার একটি বড় কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত পল্লবী নিজেও জানতেন না যে অফিসের কাজের ফাঁকে সারাদিনে কত কাপ বাইরের চা তাঁর পেটে চলে যেত। কিন্তু একদিন তিনি নিজেই এই অভ্যাসে রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই ভাবনা থেকেই বেছে নেন এক অভিনব চ্যালেঞ্জ— ‘টানা ৩০ দিন বাইরের দোকানের চা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলে কী হয়?’ মাত্র এক মাস পর তাঁর শরীরে এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে যে পরিবর্তন এল, তা দেখে চমকে গিয়েছেন সকলেই।

প্রথম ৪ দিন যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র!

চ্যালেঞ্জের প্রথম ৩-৪ দিন পল্লবীর কাছে ছিল নরকযন্ত্রণা। প্রতিদিন বিকেলে যখন অফিসের সহকর্মীরা তাঁকে চা খাওয়ার জন্য ডাকতেন, তখন তাঁদের ‘না’ বলাটা তাঁর কাছে ছিল এক বিরাট যুদ্ধ জয়ের মতো। যেহেতু প্রতিদিন শরীরে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্যাফেইন যাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তাই প্রথম কয়েকদিন পল্লবীর হালকা মাথাব্যথা এবং দুপুরের দিকে তীব্র ক্লান্তি ও অলসতার মতো কিছু লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। পঞ্চম দিনে পৌঁছাতেই তাঁর শরীর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং সবকিছু আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

মাত্র ১০ দিন পর থেকেই পল্লবী তাঁর শরীরে কিছু অপ্রত্যাশিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন।

প্রতিদিন বাইরের দুধ-চিনি দেওয়া চা খাওয়া বন্ধ করতেই পল্লবীর প্রায় ৯০ শতাংশ গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালা ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে যায়। তাঁর হজমশক্তির দারুণ উন্নতি ঘটে এবং শরীর আগের চেয়ে অনেক হালকা ও চনমনে মনে হতে থাকে।

শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে রাতে ঘুমের গুণগত মান অনেক উন্নত হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে তাঁর ত্বকেও। ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায় এবং চেহারার ক্লান্তির ছাপ পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।

কী বলছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা?

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বাইরে যে সমস্ত চা পাওয়া যায়, সেগুলির স্বাদ বাড়ানোর জন্য প্রায়শই অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত দুধ এবং প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পানীয় পুরোপুরি এড়িয়ে চললে শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে টক্সিনমুক্ত (Detox) করতে পারে। পাশাপাশি, এটি খুব সহজেই শরীরের ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

মাস শেষে নিজের ইউপিআই (UPI) স্টেটমেন্ট দেখে চোখ কপালে ওঠে পল্লবীর। বাইরে সাধারণত এক কাপ চায়ের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা। দিনে ৩-৪ কাপ চা, তার সঙ্গে শিঙাড়া বা বিস্কুটের মতো স্ন্যাক্স এবং মাঝেমধ্যে বন্ধুদের খাওয়ানো— সব মিলিয়ে মাসে অনায়াসেই ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছিল কেবল এই চায়ের পেছনেই! ৩০ দিনের এই চ্যালেঞ্জের জেরে সেই খরচ এক ধাক্কায় নেমে এসেছে শূন্যে। পল্লবী এখন হাসিমুখে জানাচ্ছেন, স্রেফ বাইরের চা খাওয়া ত্যাগ করেই তিনি প্রতি মাসে একটা ছোটখাটো স্মার্টফোন কেনার মতো টাকা বাঁচিয়ে ফেলছেন। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই জার্নির গল্প শেয়ার করেছেন।

Follow Us