
ত্বকের যত্নে জল একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি শুধুমাত্র শরীরের জন্য নয়, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত ত্বকের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বক অনেক উপকার পায়। আমরা প্রায়শই শুনি অনেকেই বলে থাকেন, বেশি জল খেলে ত্বক উজ্জ্বল হবে। সত্যিই কি এমনটা হয়? বিশিষ্ট ত্বক বিশেষজ্ঞ দেবত্রী দত্ত TV9 Bangla-কে এই বিষয়ে জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট ত্বক বিশেষজ্ঞ দেবত্রী দত্ত বলেন, “ত্বকের যত্নে জল বিরাট কার্যকরী, এমনটা অনেকেই ভাবেন। কিন্তু লোকজন এটা নিয়ে যতটা ভাবেন, ঠিক ততটাও উপকার এর ফলে হয় না। লোকজন ভাবে বেশি করে জল খেলাম মানেই স্ক্রিন চকচক করবে। তেমনটা কিন্তু নয়। আমরা বলি দেড় বা দুই লিটার জল খাওয়া উচিত। তার থেকে বেশি কেউ খেলে, ধরুন কেউ ৫ লিটার জল খেল, তাতে যে তাঁর স্ক্রিন বেশি চকচক করবে, তেমনটা কিন্তু নয়। বেশি খেলে ত্বক বেশি উজ্জ্বল হবে, এমন কোনও ব্যাপার সত্যিই নেই। তবে কম জল খেলে ত্বক কিন্তু ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এর জায়গায় অন্য অভ্যাস ঠিক করতে হবে। ও খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। আর তার সঙ্গে স্কিনকেয়ার রুটিনে নজর রাখা জরুরি।”
১. ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে: জল ত্বকের কোষগুলিকে ভেতর থেকে আর্দ্রতা সরবরাহ করে, যা ত্বককে নরম, মসৃণ এবং টানটান রাখে। জলের অভাবে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়।
২. বিষাক্ত পদার্থ দূর করে: পর্যাপ্ত জল পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থগুলি প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এর ফলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকের সমস্যা, যেমন ব্রণ, ফুসকুড়ি ইত্যাদি কম হয়।
৩. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি: যখন শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকে, তখন ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখায়।
৪. বার্ধক্য প্রতিরোধ: জল ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন ধরে রাখতে সাহায্য করে। কোলাজেন হল সেই প্রোটিন যা ত্বককে টানটান রাখে। নিয়মিত জল পান করলে ত্বকে বলিরেখা এবং বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে না।
৫. পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা: জল ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা ত্বককে সুস্থ রাখতে এবং সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
১. মুখ পরিষ্কার রাখা: বাইরে থেকে ফিরে বা ঘুম থেকে উঠে পরিষ্কার জলে মুখ ধুলে ধুলো, ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর হয়, যা ত্বককে সতেজ করে।
২. ত্বকের ক্লান্তি দূর করা: ঠান্ডা জলের ঝাপটা মুখে দিলে বাষ্পায়ন প্রক্রিয়ার ফলে ত্বকের ক্লান্তি দ্রুত দূর হয় এবং ত্বক সঙ্গে সঙ্গে সতেজ হয়ে ওঠে।
৩. লোমকূপ পরিষ্কার রাখা: উষ্ণ জলের বাষ্প নিলে লোমকূপগুলি খুলে যায়, যা ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করতে এবং লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
৪. ফোলা ভাব কমানো: চোখের নীচে বা মুখে কোনো ফোলা ভাব থাকলে ঠান্ডা জল বা বরফ জল দিয়ে মুখ ধুলে বা ওই অংশে ঠান্ডা সেঁক দিলে ফোলা ভাব কমে যায়।