
রুটি (Roti) বা পাউরুটি (Bread) ছাড়া অনেকেরই সকালের জলখাবার কিংবা রাতের খাওয়া সম্পূর্ণ হয় না। অনেকেই একটু কড়কড়ে বা পোড়া পোড়া রুটি খেতে বেশি পছন্দ করেন। দ্রুত রান্নার জন্য গ্যাস ওভেনের আগুনে সরাসরি রুটি সেঁকে নেওয়ার অভ্যাসও রয়েছে অনেক বাড়িতে। কিন্তু এই সাধারণ একটি অভ্যাসের কারণে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে না তো? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এমনই এক আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন।
কেন কালো হয়ে যায় রুটি?
অতিরিক্ত সেঁকার ফলে রুটি বা পাউরুটির গায়ে কালো কালো দাগ পড়ে যায়। এর পেছনের মূল কারণ হল কার্বোহাইড্রেট। রুটি বা পাউরুটি অতিরিক্ত সেঁকা হলে তা পুড়ে যায় এবং সেখান থেকে এক ধরনের রাসায়নিক নির্গত হয়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ (Acrylamide) বলা হয়। এই রাসায়নিকের কারণেই রুটি কালো হয়ে যায়।
ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা?
কৈলাশ দীপক হাসপাতালের ক্যানসার সার্জেন চিকিৎসক মণীশ সাইনি জানিয়েছেন, সিগারেটের মধ্যেও এই অ্যাক্রিলামাইড থাকে। যা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। প্রচুর পরিমাণে এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অল্প পরিমাণ অ্যাক্রিলামাইড থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি ঠিক কতটা বাড়ে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও গবেষণা হয়তো নেই। তবে প্রতিদিন পোড়া বা অতিরিক্ত সেঁকা রুটি খেলে শরীরে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাও
ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার-এর (IARC) তরফেও এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের মতে, ক্যানসার প্রতিরোধ করতে অতিরিক্ত ভাজা বা পোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। মাংস বা রুটি অতিরিক্ত পুড়িয়ে খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। পাশাপাশি খুব বেশি কড়া করে ভাজা চিপস বা পাঁপড় খাওয়াও কমানো দরকার।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রুটি সরাসরি গ্যাসে বা আগুনের শিখায় না সেঁকে চাটু বা তাওয়ার ওপর সুতির পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে সেঁকে নেওয়া উচিত। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সরাসরি গ্যাসে রুটি সেঁকলে এক ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস শরীরের ভেতর গেলে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। তাই হালকা বাদামি রঙের নরম রুটি খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।