
পুজো মানেই তো প্যান্ডেল হপিং, বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা, আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। অষ্টমীর সকালে লুচি-আলুর দম থেকে শুরু করে নবমীর রাতে বিরিয়ানি, পুজোর কয়েকটা দিন ডায়েট ভুলে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। আর এর সঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে ফুচকা, এগ রোল বা চাউমিন তো রয়েছেই। কিন্তু মুশকিল হল, এই টানা কয়েক দিন বাইরের তেল-মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে উৎসবের মাঝপথেই পেটখারাপ বা গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আনন্দ মাটি যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে পেটও ভালো থাকবে, আর পুজোর আনন্দও ফিকে হবে না।
কী কী করবেন?
জল পান
পুজোর সময় ভিড়ে এবং গরমে ঘুরে ঠাকুর দেখার ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। এর থেকে দ্রুত হজমের গোলমাল শুরু হতে পারে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেটের জুসের বদলে ডাবের জল, ফ্রেশ লেবুর জল বা ঘোল খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং মেটাবলিজম ঠিক থাকবে।
দিনের শুরুতে ডিটক্স পানীয়
সকালটা শুরু হোক স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে। ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া আগের রাতে ভিজিয়ে রাখা জিরে বা মৌরির জলও খুব উপকারী। এটি সারাদিন হজম প্রক্রিয়াকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফলে রাতে ভারী খাবার খেলেও গ্যাস বা অম্বল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
ব্যালেন্স করে খাওয়া
উৎসবের দিনে বাইরের খাবার তো খেতেই হবে, তবে একটু বুদ্ধি করে। রাতে যদি চাইনিজ বা মোগলাই খাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে দিনের বেলা হালকা এবং বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি বা হালকা মাছের ঝোল খেলে পেটে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। একবারে অনেকটা না খেয়ে, অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
রাতের খাবারে সতর্কতা
অনেক রাত করে ঠাকুর দেখার পর ভারী খাবার খেলে বদহজম হওয়াটাই স্বাভাবিক। চেষ্টা করতে হবে রাতের খাওয়া একটু তাড়াতাড়ি সেরে ফেলার। আর যদি একান্তই রাত হয়, তবে খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া একদমই ঠিক নয়। অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করলে খাবার দ্রুত হজম হয়।
পুজোর পাঁচটা দিন চুটিয়ে আনন্দ করার জন্য শরীর সুস্থ রাখাটা সবার আগে দরকার। কোনও রকম ওষুধের উপর নির্ভর না করে, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য ব্যালেন্স রাখলেই উৎসবের দিনগুলোতে গ্যাস-অম্বলকে অনায়াসেই দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব।