
শরতের আকাশ আর ঢাকের আওয়াজে মেতে উঠেছে শহর। মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ঠাকুর দেখার সময় শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই বাড়ি থেকে বেরনোর আগে ব্যাগে কয়েকটি জিনিস না রাখলেই বিপদ। কী কী রাখবেন?
শরতের নীল আকাশ আর ঢাকের আওয়াজ ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে উৎসবের মরশুম হাজির। শুরু হয়ে গিয়েছে প্যান্ডেল হপিং। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রতিটি নামীদামি পুজো মণ্ডপেই এখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিমা দর্শনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে লাইনে। কখনও চড়া রোদ, কখনও আবার গুমোট গরমে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উৎসবের আনন্দ যাতে মাটি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই তৈরি থাকা দরকার। ব্যাগে কয়েকটি জরুরি জিনিস সঙ্গে রাখলে পুজো পরিক্রমা যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই বাঁচা যাবে নানা বিপত্তি থেকেও। কী কী রাখবেন ব্যাগে?
১. জলের বোতল:
ভিড়ের মধ্যে একটানা হেঁটে বা দাঁড়িয়ে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। ডিহাইড্রেশন বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা এড়াতে ব্যাগে অবশ্যই একটি জলের বোতল রাখা দরকার। প্রয়োজনে ওআরএস (ORS) বা গ্লুকোজ পাউডারও সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
২. ছাতা বা ছোট ফোল্ডিং ফ্যান:
আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চড়া রোদের পর হঠাৎ বৃষ্টি নামতেই পারে। তাই ব্যাগে একটি ছোট ছাতা রাখা মাস্ট। পাশাপাশি, গুমোট গরমে স্বস্তি পেতে সঙ্গে রাখতে পারেন একটি ছোট রিচার্জেবল ফ্যান।
৩. পাওয়ার ব্যাঙ্ক ও চার্জিং কর্ড:
প্যান্ডেলে প্রতিমার ছবি তোলা, রিলস বানানো এবং ফোনে যোগাযোগ রাখার কারণে ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে দলছুট হয়ে গেলে যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, তার জন্য ফুল চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে রাখা আবশ্যক।
৪. ওয়েট ওয়াইপস ও স্যানিটাইজার:
ঘামে মুখের মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয় যেমন থাকে, তেমনই রাস্তাঘাটের ধুলোবালি জমে ত্বক চিটচিটে হয়ে ওঠে। চটজলদি ফ্রেশ হতে দারুণ কাজে আসবে ওয়েট ওয়াইপস। সঙ্গে হাত পরিষ্কারের জন্য পকেট স্যানিটাইজার রাখতেই হবে।
৫. নগদ ও খুচরো টাকা:
আজকাল সব জায়গাতেই অনলাইন পেমেন্ট চালু থাকলেও ভিড়ের কারণে অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়ে যায়। ফলে ইউপিআই (UPI) কাজ নাও করতে পারে। ফুচকা খাওয়া বা টুকিটাকি কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত ক্যাশ ও খুচরো টাকা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. ব্যান্ড-এইড ও জরুরি ওষুধ:
নতুন জুতো পরে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পায়ে ফোস্কা পড়ার অভিজ্ঞতা বহু মানুষেরই থাকে। তাই ব্যাগে কয়েকটি ব্যান্ড-এইড রাখা দরকার। এর পাশাপাশি অ্যাসিডিটি, মাথা ব্যথা বা বমির মতো সাধারণ সমস্যার জন্য জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা শ্রেয়।
পুজোর সাজপোশাকের পাশাপাশি এই ছোটখাটো প্রস্তুতিই ভিড়ের মধ্যেও সারা রাত ঠাকুর দেখার আনন্দ বজায় রাখতে পারে।