
উৎসবের দিনগুলোতে মিষ্টিমুখ না হলে কি জমে? কিন্তু রোজ রোজ ময়দা আর চিনির রসে ডোবানো মিষ্টি খেলে শরীরের বারোটা বাজতে বাধ্য। তাই বলে কি ডায়েটের কথা ভেবে মন খারাপ করে বসে থাকবেন? একদমই নয়। একটু বুদ্ধি খাটালেই মুশকিল আসান। ময়দার বদলে আটা, আর চিনির বদলে গুড়, এই দুইয়ের ম্যাজিকেই এবার পুজোর আড্ডা জমজমাট হতে পারে।
দোকানের কেনা মিষ্টির চেয়ে বাড়িতে বানানো খাবারের কদর সবসময় আলাদা। খুব সামান্য উপকরণ দিয়ে চটজলদি তৈরি হয়ে যায় এই জিলিপি। খেতে যতটা সুস্বাদু, বানানোও ঠিক ততটাই সহজ। হঠাৎ অতিথি এলে বা ছুটির দিনে অন্যরকম কিছু খেতে ইচ্ছে করলে, এই রেসিপিটি একবার ট্রাই করে দেখতেই পারেন।
কী কী উপকরণ লাগবে?
গমের আটা: ১ বাটি
ইনো: ১ প্যাকেট
দেশি ঘি: ২-৩ টেবিল চামচ
গুড়: ২৫০ গ্রাম
এলাচ গুঁড়ো: ২ চা চামচ
জল: ১ বাটি
ভাজার জন্য সাদা তেল বা ঘি
সাজানোর জন্য কাজু, পেস্তা ও কাঠবাদাম কুচি
কীভাবে বানাবেন?
গুড়ের রস তৈরি: প্রথমে একটা পাত্র নিন। তাতে এক বাটি জলের সঙ্গে গুড় দিয়ে ফুটতে দিন। জল ফুটে উঠলে আঁচটা একটু কমিয়ে দিন। এবার ১৫ মিনিট ধরে ভালো করে ফোটান। সুন্দর গন্ধের জন্য সামান্য এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। রস ঠান্ডা হলে একটা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে আলাদা করে রাখুন।
ব্যাটার বানানো: এবার জিলিপির ব্যাটার তৈরির পালা। একটা বড় পাত্র নিন। তাতে আটা, ইনো আর ঘি একসঙ্গে নিয়ে ভালো করে মেশান। এবার অল্প অল্প জল ঢালুন আর একটা পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণে যেন কোনও দলা না থাকে। টানা ৬-৭ মিনিট ফেটিয়ে নিন, দেখবেন ব্যাটার একদম মসৃণ হয়ে গিয়েছে।
ভাজার কায়দা: জিলিপি ভাজার জন্য বাজার থেকে কিছু কেনার দরকার নেই। বাড়িতে থাকা একটি পরিষ্কার দুধের প্যাকেট নিন। প্যাকেটে ব্যাটার ভরে এক কোণ সামান্য কেটে নিন। এবার প্যানে তেল বা ঘি গরম করুন। আঁচ মাঝারি রাখুন। প্যাকেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গরম তেলে জিলিপির প্যাঁচ দিন। দু’দিক সোনালি ও মুচমুচে করে ভেজে তুলে নিন।
রসে ডোবানো: ভাজা জিলিপিগুলো তুলে সোজা ঠান্ডা গুড়ের রসে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর রস থেকে তুলে প্লেটে সাজান। উপরে কাজু আর পেস্তা ছড়িয়ে দিলেই পরিবেশনের জন্য একদম তৈরি মুচমুচে জিলিপি। মালাইয়ের সঙ্গে এই মিষ্টি পরিবেশন করুন, স্বাদ আরও খোলতাই হবে।