
বৃষ্টির দিনে (Rainy Season) সাদা পোশাক পড়লেই মনে চলে একরাশ আতঙ্ক। সকালে পরিপাটি হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে যতটা ভালো লাগে, রাস্তায় বেরোনোর পর সেই আনন্দ মাটি হতে সময় লাগে না। ফুটপাতে হাঁটার সময় কিংবা পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে কোনও গাড়ি চলে গেলেই হল- প্রিয় সাদা কামিজ বা পাঞ্জাবিতে ছপাৎ করে কাদার ছিটা! মুহূর্তেই মন খারাপ। কিন্তু এই দাগ মানেই কি শখের পোশাকটির বিদায় ঘণ্টা? একদমই নয়। বরং সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করলে আপনার পছন্দের সাদা পোশাক ফিরে পেতে পারে আগের সেই উজ্জ্বলতা।
কাদা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই রুমাল বা হাত দিয়ে ঘষার চেষ্টা করেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিই সবথেকে বড় ভুল। ভেজা কাদা ঘষলে তা কাপড়ের তন্তু বা সুতার গভীরে ঢুকে যায়, ফলে দাগ আরও স্থায়ী হয়ে পড়ে। বুদ্ধিমানের কাজ হল কাদাটা শুকোতে দেওয়া। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে একটি নরম ব্রাশ বা হাত দিয়ে হালকা করে ঝেড়ে ফেলুন। দেখবেন কাদার বড় অংশটা এমনিই ঝরে গিয়েছে, রয়ে গিয়েছে শুধু হালকা একটা ছোপ।
কাদা ঝাড়ার পর ধোয়ার পালা। তবে ভুলেও গরম জল ব্যবহার করবেন না। গরম জল দাগকে কাপড়ের আঁশে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়। ট্যাপের সাধারণ ঠান্ডা জলে কাপড়ের উল্টো দিক থেকে জল ঢালুন। এতে সুতার ফাঁকে আটকে থাকা মাটির কণাগুলো সহজেই বেরিয়ে আসে।
ঘরোয়া উপাদান দিয়েই হবে সমস্যার সমাধান
লিকুইড ডিটারজেন্ট: দাগের জায়গায় সামান্য তরল ডিটারজেন্ট লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর নরম টুথব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকারে হালকা করে ঘষুন। সাদা কাপড়ের ক্ষেত্রে রঙিন ডিটারজেন্ট এড়িয়ে চলাই ভালো।
বেকিং সোডা: রান্নাঘরের এই অতি পরিচিত উপাদানটি দাগ তোলার মহৌষধ। সামান্য জলের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন এবং দাগের ওপর লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর ক্ষারীয় গুণ পুরনো দাগও হালকা করে দেয়।
অক্সিজেন ব্লিচ: যদি দাগ খুব জেদি হয়, তবে অক্সিজেন ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ক্লোরিন ব্লিচ থেকে সাবধান, এটি সাদা কাপড়ের সুতা দুর্বল করে দেয়।
কাপড় ধোয়ার পর শুকাতে দেওয়ার আগে অবশ্যই একবার দেখে নিন দাগ পুরোপুরি উঠেছে কি না। ভিজে অবস্থায় অনেক সময় দাগ বোঝা যায় না, কিন্তু রোদে শুকালে তা আবার প্রকট হয়ে ওঠে। একবার রোদে শুকিয়ে গেলে সেই দাগ তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই বর্ষার কাদা দেখে ভয় না পেয়ে এই সহজ কৌশলগুলো মেনে চলুন, আপনার সাদা পোশাক থাকবে নতুনের মতো উজ্জ্বল।