
ধরুন, আপনি গান শুনছেন বা কোনও কাজে ব্যস্ত আছেন। এমন সময় শুনলেন, কেউ আপনার নাম ধরে ডাকছে। অথচ আশেপাশে কেউ নেই। সুতরাং, কেউ আপনাকে ডাকেনি। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। চারপাশে হয়ত গান বাজছে বা বাইরে দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে হঠাৎ মনে হল, কেউ যেন আপনার নাম ধরে ডাকল। চমকে চারদিকে তাকিয়েও দেখলেন, কেউই আপনাকে ডাকেনি। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কিন্তু কেন এমন ঘটে?
বিজ্ঞানের মতে, এর পিছনে রয়েছে আমাদের মস্তিষ্কের শব্দ বোঝার এক বিশেষ পদ্ধতি। মস্তিষ্ক শব্দকে কোনও যন্ত্রের মতো শুধু রেকর্ড করে না। বরং চারপাশের অসংখ্য আওয়াজের মধ্যে থেকে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ শব্দ খোঁজার চেষ্টা করে। আর নিজের নামের চেয়ে বেশি পরিচিত শব্দ খুব কম রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা বারবার নিজেদের নাম শুনে অভ্যস্ত। পরিবার, বন্ধু বা পরিচিত মানুষের মুখে নিজের নাম শুনতে শুনতে এই শব্দের একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হয়। নিজের নামের সঙ্গে জড়িয়ে পরিচয় ও সামাজিক পরিচিতির মতো বিষয়। এই কারণেই আশপাশে অনেক কথাবার্তা চললেও নিজের নাম কানে আসামাত্র আমাদের মনোযোগ সেই দিকে চলে যায়।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ককটেল পার্টি এফেক্ট’। এই এফেক্টের ফলে কোনও ভিড়ের মধ্যে একাধিক মানুষ কথা বললেও আমরা অন্যের কথাবার্তা উপেক্ষা করে নিজের নামের মতো শব্দ শুনে নিই। এমনকি, যে কথোপকথনের দিকে আমরা মন দিচ্ছি না, সেখানেও নিজের নাম আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে নেয়। তবে মাঝেমধ্যে সাধারণ শব্দেও মনে হয় কেউ কথা বলছে, যার নাম ‘অডিটরি প্যারেইডোলিয়া’। অর্থাৎ, অস্পষ্ট, অর্থহীন শব্দের মধ্যে মস্তিষ্কের পরিচিত কোনও শব্দ, কণ্ঠস্বর বা কথার ছন্দ খুঁজে পাওয়া। ধরুন, বাথরুমে জল পড়ছে বা ঘরে ফ্যান ঘুরছে। সেই একটানা শব্দের মধ্যে মনে হতে পারে, কেউ যেন কথা বলছে বা আপনার নাম ধরে ডাকছে।
আমাদের মস্তিষ্ক আসলে সবসময় আশপাশের কথাকে বিশ্লেষণ করে কিন্তু সর্বদা প্রতি শব্দের কথা বা অর্থ বোঝার মতো প্রয়োজন বোধ করে না। তাই অসম্পূর্ণ তথ্যের সঙ্গে আগের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে সম্ভাব্য অর্থ তৈরি করে। তাই আপনি যদি কারও ফোন বা ডাকের অপেক্ষায় থাকেন, তা হলে অস্পষ্ট কোনও আওয়াজকে নিজের নাম বলে মনে হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেতে পারে।