
একসময় বাঙালির ঘরে লক্ষ্মীরা আলমারির কোণ বা শাড়ির ভাঁজে সযত্নে জমিয়ে রাখতেন তাঁদের হাত খরচের টাকা । কিন্তু সময় বদলেছে, আর সেই সঙ্গে বদলেছে মহিলাদের সঞ্চয়ের সংজ্ঞাও। বর্তমানে গৃহবধূদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। সাধারণত এই টাকা সাংসারিক ছোটখাটো প্রয়োজন বা শখের জিনিস কিনতেই খরচ হয়ে যায়। কিন্তু সামান্য একটু দূরদর্শিতা থাকলে এই ১৫০০ টাকাই আপনাকে ভবিষ্যতে লক্ষ টাকার মালিক করে তুলতে পারে। কীভাবে?
আপনার হাতে থাকা ১৫০০ টাকা যদি আপনি প্রতি মাসে একটি মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি (SIP) বা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন, তবে পনেরো বছরের হিসেবে ফলাফল দেখলে আপনি নিজেই চমকে যাবেন। বর্তমান বাজার এবং ফিন্যান্সিয়াল ক্যালকুলেটরের তথ্য অনুযায়ী: ধরুন মাসিক বিনিয়োগ করলেন ১,৫০০ টাকা। ১৫ বছর পর আপনার মোট জমানো টাকা হবে ২,৭০,০০০ টাকা। যদি সম্ভাব্য ১২% হারে বাড়ে তাহলে ১৫ বছর পর হাতে পাবেন ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। এই বিশাল অংক দিয়ে মহিলারা অনায়াসেই নিজেদের বড় কোনো শখ পূরণ, সন্তানদের উচ্চশিক্ষা বা ব্যবসায়িক পুঁজি তৈরি করতে পারেন। বাড়িতে বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট রাখলে কিন্তু তা কখনই সম্ভব নয়।
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে, ৫ বছর অন্তর সরকার বদল হয়, তাহলে ১৫ বছর ধরে কি এই সুবিধা পাওয়া যাবে? রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে, বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বড় তুরুপের তাস। এক দল অন্য দলকে টক্কর দিতে গিয়ে এই ভাতার পরিমাণ কমানোর বদলে ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোরই সম্ভাবনা বেশি। ৫ বছর আগের ৫০০ টাকা যেমন আজ ১৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগামী দিনে এই অংক যে আরও বাড়বে না, তা হলফ করে বলা যায় না। সুতরাং, সরকার যাই হোক, মহিলাদের হাতে টাকার যোগান অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
নারী দিবসের সংকল্প: খরচ না কি বিনিয়োগ?
নারী দিবসের এই বিশেষ দিনে ম আজ ভাববার সময় এসেছে। প্রতি মাসের ১৫০০ টাকা কি নিছক কিছু ছোটখাটো শখ পূরণে খরচ হয়ে যাবে, নাকি আলমারির কোণে পড়ে থেকে তার মূল্য হারাবে? নারী দিবসের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে যখন একজন নারী মানসিকভাবে এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠেন. অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের জমানো টাকাতেই বিশাল সম্পদের মালিক হওয়া এখন সম্ভব। তাই এই নারী দিবসে সাধারণ সঞ্চয় নয়—বিনিয়োগের হাত ধরেই হোক মহিলাদের নতুন জয়যাত্রা।