
শরীর সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। তার মধ্যে প্রোটিন, ফ্যাট সবই থাকতে হবে। কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে শুধুই যদি প্রোটিন খান তাহলে চলবে না। এতে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে। পরিশ্রম করার ক্ষমতাও থাকবে না। প্রত্যেক বয়সের প্রত্যেক মানুষেরই প্রোটিন পাউডারের প্রয়োজন। শরীরের জন্য যে সব খাবার প্রয়োজন তা আমরা সকলেই জানি। তবে সময় সুযোগ করে খাওয়া হয় না। যাঁরা নিয়মিত ভাবে শরীরচর্চা করেন তাঁদের জন্য প্রোটিন পাউডারের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নইলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, পরিশ্রম করার ক্ষমতাও থাকে না। এমনকী পেশীর গঠনও ঠিকমতো হয় না। বাজার চলতি অনেক প্রোটিন পাউডার পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে চিনির ভাল বেশি থাকে। যা মোটেই ভাল নয়।
বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারবেন এই প্রোটিন পাউডার। কুমড়ো বীজ, সানফ্লাওয়ার বীজ, ফ্লেক্স সিড, ওটস, মাখানা, আমন্ড, ড্রাই খেজুর, কিশমিশ, পেস্তা, আখরোট দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন এই পাউডার। মাখানার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালশিয়াম। যা জয়েন্টের ব্যথা দূর করে। সহজে হজম করাতে, হার্টের সমস্যা দূর করতে এবং কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে এই মাখানা। ওজন কমাতে, ত্বক ঠিক রাখতে মাখানা খুবই ভাল কাজ করে। মাখানা রোস্ট করে খাওয়া যেতে পারে, মাখানার পায়েস বানিয়েও খাওয়া যেতে পারে। তেমনই উপকারী হল ওটস। ওটসে রয়েছে বিটা গ্লুকান, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। এতে বেশি খিদে পায় না। হজমশক্তি ভাল থাকে। ফাইবার থাকায় দীর্ঘসময় পেট ভরিয়ে রাখে।
কোভিড কাল থেকেই বিভিন্ন বীজ খাওয়ার প্রচলন বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ো বীজ, তিসি বীজ ইত্যাদি। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আর ভিটামিন-এ তে ভরপুর এই কুমড়ো বীজ। কুমড়োর বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম আর জিঙ্ক যা অস্টিওপোরেসিসের মতো হাড়ের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবারও থাকে অনেকটা পরিমাণে ফলে পেট ভর্তি থাকে বেশ কিছুক্ষণ।
কীভাবে বানিয়ে নেবেন এই প্রোটিন পাউডার?
শুকনো কড়াইতে প্রথমে ২ কাপ ওটস নিয়ে ড্রাইরোস্ট করে নিতে হবে। এবার ২ কাপ মাখানা মিশিয়ে নিতে হবে। একে একে আমন্ড, আখরোট, পেস্তা ড্রাই রোস্ট করে নিন। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, ফ্ল্যাক্স সিড, সাদা তিল ২ চামচ, ১ চামচ পোস্ত, ১০ টা কিশমিশ ৭ টা শুকনো খেজুর টুকরো টুকরো করে দিন। এবার সব কিছু নিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি প্রোটিন পাউডার।