
মাছের ঝোল ভাত হোক বা রবিবারের খাসির মাংস, বাঙালির কি আর চামচে মন ভরে? ডান হাতে কবজি ডুবিয়ে মেখে, আঙুল চেটেপুটে খাওয়ার যে স্বর্গীয় তৃপ্তি, তা পৃথিবীর কোনও ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁর কাঁটাচামচেও মিলবে না। কিন্তু গন্ডগোলটা বাঁধছে অন্য জায়গায়। জেন-জি থেকে শুরু করে ফ্যাশন সচেতনদের ডান হাতের নখেও এখন বাহারি জেল নেল পলিশ আর বড় বড় এক্সটেনশনের ছড়াছড়ি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, ওই শখের চকচকে নখ দিয়ে যখন গরম ভাতে ডাল-তরকারি মাখছেন, তখন খাবারের সঙ্গে পেটে আর কী কী যাচ্ছে?
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
চিকিৎসকদের মতে, নেল পলিশে ফর্মালডিহাইড, টলুইন বা ডিবিপি-র মতো বেশ কিছু মারাত্মক কড়া রাসায়নিক থাকে। ইউরোপের অনেক দেশে এই ধরনের বিষাক্ত উপাদান ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডান হাত দিয়ে খাবার মাখার সময় নেল পলিশের অতি সূক্ষ্ম টুকরো খুব সহজেই ভাতের সঙ্গে মিশে যায়। আর সেই খাবার সরাসরি পৌঁছয় পাকস্থলীতে। নখ নিজে কেমিক্যাল না শুষলেও, এই রাসায়নিক পেটে গিয়ে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি এবং হজমের সমস্যারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু পেটের ক্ষতি নয়, এই কৃত্রিম প্রসাধনের দাপটে নখেরও দফারফা হয়। অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রলেপে নখ নিজস্ব আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও পাতলা হয়ে যায়। সহজেই ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কিউটিকলের চারপাশে লালচে ভাব, র্যাশ ও চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাঁরা মা হতে চলেছেন বা যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের এই জেল নেল পলিশ বা এক্সটেনশন থেকে একশো হাত দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাহলে উপায়? বাঙালির কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার শখ তো আর ছাড়া যায় না! তাই রোজ রোজ নখে কেমিক্যালের স্তর না চাপিয়ে মাঝেমধ্যে নখকে একটু ছুটি দেওয়া দরকার। একান্তই নেল পলিশ পরতে হলে খাওয়ার সময় বাধ্য হয়ে চামচ ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আর নখের জেল্লা ফেরাতে পার্লারে না গিয়ে বাড়িতেই ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য শ্যাম্পু, গোলাপ জল আর সাধারণ ময়শ্চারাইজার দিয়ে যত্ন নিন। সাজগোজ চলুক, কিন্তু তা যেন কখনও স্বাস্থ্যের শত্রু না হয়ে ওঠে!