
কুড়িতেই বুড়ি! বহু প্রচলিত এই কথা এখন আর শোনা না গেলেও, কুড়িতেই কিন্তু অনেকের বয়সের ছাপ পড়ছে।এখন অনেকেরই কুড়ি বা ত্রিশের কোঠায় পা দিতে না দিতেই চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বংশগত কারণ, পুষ্টির অভাব বা অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে এমনটা হতে পারে। একবার চুল পাকতে শুরু করলে তা ঢাকতে নিয়মিত হেয়ার কালার করা ছাড়া উপায় থাকে না। তবে শুধু পছন্দমতো রঙের শেড বেছে নিলেই কাজ শেষ হয় না, আরও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার।
চুল কত তাড়াতাড়ি বাড়ছে এবং সাদা চুল ঠিক কোথায় রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে কত দিন পর পর রং করতে হবে। সব চুল একবারে না রাঙিয়ে, নতুন গজানো চুলের গোড়ায় শুধু ‘রুট টাচ-আপ’ করলেই অনেক সময় কাজ চলে যায়।
হেয়ার কালার কেনার আগে প্যাকেটের উপাদানগুলো দেখে নেওয়া উচিত। অনেক রঙেই অ্যামোনিয়া বা পিপিডি থাকে। এগুলি চুলের পক্ষে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর।
অ্যামোনিয়া: এটি চুলের গোড়া বা কিউটিকেল খুলতে সাহায্য করে। এর ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়।
পিপিডি (PPD): এটি রঙকে দীর্ঘস্থায়ী করে, তবে অনেকের ত্বকে এটি থেকে অ্যালার্জি বা চুলকানি হতে পারে।
বাজারে এখন অ্যামোনিয়া, পিপিডি, সুগন্ধি এবং অ্যালকোহল ছাড়া হেয়ার কালারও পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহারে ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকি কমে এবং চুলও সুরক্ষিত থাকে। তবে ব্যবহারের আগে ত্বকে ছোট একটি ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া ভালো।
চুলের পাশাপাশি মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখাও সমান জরুরি। অনেক সময় নিয়মিত কালার করলে স্ক্যাল্পে সমস্যা হতে পারে। তাই এখনকার অনেক উন্নত হেয়ার কালারে প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন- জলপাই তেল, বিভিন্ন ভেষজ নির্যাস ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়, যা স্ক্যাল্পকে শীতল রাখে।
কম বয়সে চুল পাকা ঢাকাকে এখন শুধু একটি সাময়িক কাজ ভাবলে চলবে না। এটি আপনার দৈনন্দিন গ্রুমিং বা যত্নের একটি অংশ। তাই শুধু সাদা চুল লুকানো নয়, বরং সঠিক এবং নিরাপদ উপাদান বেছে নেওয়াটাই আসল বুদ্ধিমত্তার কাজ।