রাসায়নিকের কারণে বাজারের সবজিতে ভয়! বাড়িতেই ফলন করুন এভাবে

অনেকেই ভাবেন, গাছ মানেই তো নার্সারি থেকে চারা আনতে হবে। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের হাতেই দিয়ে রেখেছে অফুরন্ত সুযোগ। বাজার থেকে লেটুস বা ধনেপাতা কিনে এনে রান্নার পর নিচের শিকড়সহ অংশটুকু সাধারণত সকলেই ফেলে দেন। ঠিক সেখানেই লুকিয়ে আছে প্রাণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বহু সবজি নিজেদের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কাটা অংশ থেকেই পুনরায় শিকড় গজাতে সক্ষম।

রাসায়নিকের কারণে বাজারের সবজিতে ভয়! বাড়িতেই ফলন করুন এভাবে
Image Credit source: AI

Mar 10, 2026 | 5:43 PM

রান্নাঘরের ঝুড়িতে পড়ে থাকা আধখাওয়া সবজি বা খোসা কি আপনি আবর্জনা ভেবে ফেলে দেন? যদি বলি, ওই ফেলে দেওয়া অংশগুলো থেকেই আপনার বারান্দায় বা ছাদে ফলতে পারে টাটকা সবজি? শুনতে অবাক লাগলেও, বীজ ছাড়াই সবজি চাষের এই অভিনব পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। একে বলা হয় ‘রি-গ্রোইং’ বা পুনরুৎপাদন। বাজার থেকে চারা বা বীজ কেনার ঝামেলা এড়িয়েই নিজের পছন্দের বাগান সাজিয়ে তুলুন। রাসায়নিক মেশানো সবজি না খেয়ে খান নিজের বাগানের টাটকা সবজি।

অনেকেই ভাবেন, গাছ মানেই তো নার্সারি থেকে চারা আনতে হবে। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের হাতেই দিয়ে রেখেছে অফুরন্ত সুযোগ। বাজার থেকে লেটুস বা ধনেপাতা কিনে এনে রান্নার পর নিচের শিকড়সহ অংশটুকু সাধারণত সকলেই ফেলে দেন। ঠিক সেখানেই লুকিয়ে আছে প্রাণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বহু সবজি নিজেদের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কাটা অংশ থেকেই পুনরায় শিকড় গজাতে সক্ষম।

কীভাবে শুরু করবেন?

পেঁয়াজ ও রসুন: বাড়িতে রাখা পেঁয়াজে কলি বেরিয়ে গিয়েছে? ফেলে না দিয়ে ওই পেঁয়াজটি সামান্য মাটিতে পুঁতে দিন। কিছুদিনেই মিলবে টাটকা পেঁয়াজ পাতা। রসুনের ক্ষেত্রেও একই—একটি কোয়া আলাদা করে মাটিতে বসিয়ে দিলেই কেল্লাফতে!

গাজর ও বিট: গাজরের ওপরের দিকের গোল অংশটি (যেখানে পাতার গোড়া থাকে) আধ ইঞ্চি পরিমাণে কেটে একটি অগভীর পাত্রে জল দিয়ে রাখুন। জানলার ধারে রোদে রাখলে দেখবেন কয়েক দিনেই কচি সবুজ পাতা বেরোচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, এতে গাজর হবে না, কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর গাজর পাতা পাবেন যা স্যালাড বা রান্নায় দারুণ লাগে।

পুদিনা ও ধনেপাতা: বাজারের পুদিনা পাতার ডাল থেকে পাতা ছিঁড়ে নিয়ে ডালটি এক গ্লাস জলে ডুবিয়ে রাখুন। এক সপ্তাহের মধ্যেই সাদা সাদা শিকড় বেরোবে। এরপর সেটি টবে বসিয়ে দিলেই আপনার নিজস্ব পুদিনা গাছ তৈরি।

আদা ও হলুদ: রান্নার আদার গায়ে যদি ছোট ছোট ‘চোখ’ বা কুঁড়ি দেখা যায়, তবে সেটি ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে দিন। মাটি যেন খুব ভিজে না থাকে, সেদিকে নজর রাখবেন। কয়েক মাসের মধ্যেই নিচের দিকে নতুন আদা জমতে শুরু করবে।

যত্ন নেওয়ার কিছু জরুরি টিপস

তবে এই পদ্ধতিতে চাষ করতে গেলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, যদি জলে শিকড় গজাতে চান, তবে প্রতিদিন জল পাল্টানো বাধ্যতামূলক। বাসি জলে ছত্রাক জন্মানোর ভয় থাকে। দ্বিতীয়ত, গাছ যখন একটু বড় হবে এবং শিকড় শক্ত হবে, তখন তাকে সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ মাটিতে স্থানান্তরিত করতে হবে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, এই পদ্ধতি কেবল পকেট সাশ্রয় করে না, বরং ঘরোয়া বর্জ্য বা ‘কিচেন ওয়েস্ট’ কমাতেও সাহায্য করে। নিজের হাতে ফলানো রাসায়নিকমুক্ত সবজির স্বাদই হবে আলাদা।

Follow Us