
বিয়েবাড়ির মেনু হোক কিংবা ছুটির দিনের ঘরোয়া দুপুরের ভোজ— পনিরের কোনও একটি পদ ছাড়া অনেকেরই পাত ঠিক জমে না। বিশেষ করে যারা নিরামিষাশী, তাদের কাছে পনির মানেই রাজকীয় ব্যাপার। প্রোটিন আর ক্যালসিয়ামে ঠাসা এই খাবারটি শরীরের হাড় মজবুত করতে বা পেশি গঠনে দুর্দান্ত কাজ করে। কিন্তু জানেন কি, আপনার অতি প্রিয় এই শাহী পনির বা পনির বাটার মশালাই হতে পারে বিপদের কারণ? পুষ্টিবিদদের মতে, পনির সবার জন্য ভালো নয়, কারও কারও ক্ষেত্রে এটি রীতিমতো ‘বিষের’ মতো কাজ করতে পারে। তাই পনিরে কামড় দেওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি আপনার শরীর আদৌ এটি সহ্য করতে পারবে কি না।
কাদের জন্য পনির ক্ষতিকর?
পনিরের স্বাদ মুখে লেগে থাকলেও কিছু শারীরিক অবস্থায় এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
হজমের সমস্যা ও গ্যাস-অ্যাসিডিটি: পনির প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজম হতে বেশ সময় নেয়। যাদের প্রায়ই বদহজম, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকায় অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ: বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ পনিরই উচ্চ চর্বিযুক্ত বা হাই-ফ্যাট। যারা হৃদরোগে ভুগছেন বা যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য নিয়মিত পনির খাওয়া ধমনীতে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দুগ্ধজাত পণ্যে অ্যালার্জি: অনেকেরই দুধে অ্যালার্জি বা ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ থাকে। পনির যেহেতু দুধ থেকেই তৈরি, তাই এটি খেলে ত্বকে র্যাশ, পেটে ব্যথা বা বমির মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
পনির খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ
কথায় বলে, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। পনিরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। সুস্থ থাকতে চাইলে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ গ্রামের বেশি পনির খাওয়া উচিত নয়। পনির খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের ভূমিকাও অপরিসীম। ডিনার বা রাতে ঘুমানোর আগে পনির না খাওয়াই ভালো। কারণ ঘুমের সময় বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে পনির হজম হতে সমস্যা হয় এবং সকালে বুক জ্বালাপোড়া করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
আসল পনির চিনছেন তো?
আজকাল বাজারের ভেজাল পনিরের রমরমা। তাই কেনার সময় অবশ্যই তাজা এবং উন্নত মানের পনির বেছে নিন। বাড়িতে পনির খাওয়ার পর যদি পেট ভার লাগে বা কোনও অস্বস্তি হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর খাবারও ভুল মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।