
বাথরুম মানেই এখন যেন অনেকটা সময় একা কাটানোর সুযোগ। আর সেই সুযোগকে আরও দীর্ঘ করতে অনেকেরই একমাত্র সঙ্গী স্মার্টফোন। স্ক্রল করতে করতে ১০-১৫ মিনিট কোথা দিয়ে কেটে যায়, অনেকেই বুঝতেই পারেন না। কিন্তু এই অভ্যাসটি আপনার শরীরের ভেতর যে ভয়াবহ ক্ষতি করছে, তা জানলে আপনি আজই ফোন বাইরে রেখে বাথরুমে ঢুকবেন। চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সিটে বসে দীর্ঘক্ষণ ফোন ঘাঁটা আসলে শরীরকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
কেন বিপজ্জনক এই অভ্যাস?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সিট কোনও সাধারণ চেয়ার নয়। আপনি যখন কমোডে বসেন, তখন আপনার রেক্টাম বা মলাশয় কোনও সাপোর্ট পায় না। মহাকর্ষ বল বা গ্র্যাভিটির টানে শরীরের নীচের অংশের রক্তনালিগুলোতে চাপ বাড়তে থাকে। যখন আপনি ফোনে মশগুল হয়ে ১০ মিনিটের বেশি সময় ওই অবস্থায় কাটান, তখন মলদ্বারের আশেপাশের শিরাগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। ডাক্তারি পরিভাষায় একেই বলা হয় ‘পাইলস’ বা অর্শ্ব।
শরীরের নিজস্ব একটি মেকানিজম আছে। কিন্তু স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকলে আমরা শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলো খেয়াল করা হয় না। ফলে মল দীর্ঘক্ষণ কোলনে জমে থাকে এবং শক্ত হয়ে যায়। এর থেকেই শুরু হয় কোষ্ঠকাঠিন্য, যা পরবর্তীকালে ফিশার বা মলাশয়ে ফাটলের মতো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার জন্ম দেয়। চিকিৎসকরা একে ‘স্ট্রেনিং প্যারাডক্স’ বলছেন— অর্থাৎ আপনি হয়তো জোর দিচ্ছেন না, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের ওপর যে চাপ পড়ছে, তাতেই তৈরি হচ্ছে বড় অসুখ।
বাঁচার উপায় কী?
চিকিৎসকদের মতে, ৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ না হলে উঠে পড়া উচিত। প্রয়োজনে পরে আবার চেষ্টা করুন, কিন্তু বসে বসে ফোনের অপেক্ষা করবেন না।
নেশা কাটাতে ফোনটি বাথরুমের বাইরে রেখেই ভেতরে ঢোকার অভ্যাস করুন।
পায়ের তলায় ছোট টুল বা ‘স্কোয়াটি পট’ ব্যবহার করলে কোলন পরিষ্কার হওয়া সহজ হয় এবং চাপ কম পড়ে।
প্রচুর জল পান এবং ফাইবারযুক্ত খাবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে পারে।