
স্কুলের ঘণ্টা বেজেছে সবে। খেলার পিরিয়ড শেষে ক্লাসে ফিরেছিল খুদেরা। তাদের মধ্যেই ছিল তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী। আর পাঁচটা দিনের মতোই হাসিখুশি। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। ক্লাসের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল সে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো গেল না একরত্তিকে। চিকিৎসকদের কথায়, মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে (Heart Attack)! যে অসুখ এতদিন মূলত বয়স্কদের রোগ বলেই পরিচিত ছিল, আজ তা কেড়ে নিচ্ছে কচিকাঁচাদের প্রাণ। দিল্লির স্কুলের এই মর্মান্তিক ঘটনা নতুন করে ভয় ধরাচ্ছে অভিভাবকদের মনে।
আজকাল শিশুরাও যে আর এই মারণ রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত নয়, তা স্পষ্ট। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন এত ছোট বয়সেই হার্ট বিকল হয়ে যাচ্ছে? তিন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট এর পিছনে যে কারণগুলি তুলে ধরেছেন, তা প্রতিটি বাবা-মায়ের জানা জরুরি।
কী বলছেন চিকিৎসকরা?
কার্ডিওলজিস্ট ড: রোহিত সানে জানাচ্ছেন, আজকের দিনে শিশুদের মধ্যেও মারাত্মক মানসিক চাপ আর উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। পড়াশোনা বা প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে শিশুদের উপর প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছি আমরাই। আর এই স্ট্রেস থেকেই জন্ম নিচ্ছে অতিরিক্ত মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা। ডা. সানের মতে, অতিরিক্ত চিনি রক্তনালীকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এর সঙ্গে যদি খেলাধুলো বা ব্যায়ামের অভাব থাকে, তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
কার্ডিওলজিস্ট ডা. সরিতা রাও অবশ্য অন্য একটি দিকের কথা বলছেন। তাঁর মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সাধারণ হার্ট অ্যাটাক শিশুদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। বরং কিছু জন্মগত রোগ হার্ট অ্যাটাকের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। যেমন, হার্টের পেশির সমস্যা বা জন্মগত ত্রুটি। অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন থেকেও হার্টে মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis) হতে পারে। এছাড়া জিনগত কিছু রোগও অল্প বয়সে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
বাঁচার উপায় কী?
কার্ডিওলজিস্ট ডা. অভিজিৎ আকলুজকরের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে আগে থেকে সতর্ক হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সাধারণ স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করলেই হার্টের অস্বাভাবিক শব্দ বা ‘মারমার’ (Murmur) ধরা পড়তে পারে। এরপর টু-ডি ইকো (2D Echo) পরীক্ষা করলে হার্টে কোনও ফুটো বা সমস্যা আছে কি না, তা সহজেই জানা যায়। সঠিক সময়ে অপারেশন হলে শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি লক্ষণ দেখলেই অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:
এমন কোনও লক্ষণ দেখলেই আর দেরি না করে অবিলম্বে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটু সতর্কতা আর সঠিক সময়ে চিকিৎসা আপনার শিশুর অমূল্য জীবন বাঁচাতে পারে।