
বসন্ত এসে গিয়েছে! আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তার পরেই ৩ তারিখ দোল আর ৪ তারিখ হোলির হুল্লোড়ে মাতবে গোটা দেশ। পাড়ার মোড় থেকে স্কুল-কলেজের গেট সবই এখন আবির আর রঙের দখলে। কিন্তু বন্ধুদের ‘ভূত’ বানানোর এই চরম উত্তেজনার মাঝে সবথেকে সেনসিটিভ অঙ্গটির কথা ভুলে যাচ্ছেন না তো? হ্যাঁ, কথা হচ্ছে আপনার চোখের।
আজকাল আবিরে মেশানো থাকে সস্তা রাসায়নিক, কাঁচের গুঁড়ো কিংবা মেটালিক পেইন্ট। একটু অসাবধান হলেই এই রং আপনার কর্নিয়া বা রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ যাতে হাসপাতালের বেডে গিয়ে শেষ না হয়, তার জন্য দোল খেলার আগে এই ‘স্মার্ট’ টিপসগুলো একবার ঝালিয়ে নিন।
কন্ট্যাক্ট লেন্সকে ছুটি দিন
আপনি কি লেন্স পরে রং খেলার কথা ভাবছেন? এই ভুলটি ভুলেও করবেন না! লেন্স খুব দ্রুত জল আর কেমিক্যাল শুষে নেয়। একবার লেন্সের নিচে রং ঢুকে গেলে চোখের মণি বা রেটিনায় ভয়াবহ ইনফেকশন হতে পারে। তার চেয়ে বরং একটা কুল সানগ্লাস বা রোদচশমা পরুন। এতে আপনাকে দেখতেও ভালো লাগবে, আবার চোখও থাকবে ১০০% সেফ।
তেলের ‘ম্যাজিক’ লেয়ার
রং খেলতে নামার অন্তত আধঘণ্টা আগে চোখের চারপাশে ভালো করে নারকেল তেল বা কোল্ড ক্রিম লাগিয়ে নিন। এটি ‘প্রোটেক্টিভ লেয়ার’ হিসেবে কাজ করবে। ফলে রং সরাসরি চোখের পাতায় বসতে পারবে না এবং খেলার পর ধোয়ার সময়ও খুব সহজে উঠে যাবে।
চোখ ঘষলেই কিন্তু বিপদ!
চোখে রং বা আবির ঢুকে গেলেই প্রথম রিঅ্যাকশন হয় চোখ রগড়ানো। এটাই সবথেকে বড় ভুল। গবেষকরা বলছেন, রং মেশানো হাত দিয়ে চোখ রগড়ালে কর্নিয়ায় ঘষা লেগে স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। চোখ লাল হয়ে গেলে বা জ্বালা করলে ভয় না পেয়ে বারবার পরিষ্কার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।
খেলা শেষের যত্ন
রঙের দাপাদাপি শেষ হওয়ার পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আঁতকে ওঠার কিছু নেই। ধৈর্য ধরে রং পরিষ্কার করুন। চোখকে আরাম দিতে কয়েক ফোঁটা বিশুদ্ধ গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। তবে খচখচানি বা অস্বস্তি না কমলে হুটহাট আই ড্রপ ব্যবহার না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম
সারাদিন রোদে আর রঙে হুটোপুটি করার পর আপনার চোখেরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। উৎসবের শেষে ভালো করে ঘুমোন। আর হ্যাঁ, যদি দেখেন দৃষ্টি ঝাপসা লাগছে বা ব্যথা কমছে না, তবে ঘরোয়া টোটকার ভরসায় বসে থাকবেন না। মনে রাখবেন, রঙের উৎসব যেন আপনার জীবনে অন্ধকারের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।