
সর্ষের তেল (Mustard Oil) ছাড়া বাঙালির হেঁশেল যেন ঠিক জমে না। গরম ভাতে একটু কাঁচা তেল হোক বা মাছের ঝোলের সেই চেনা স্বাদ, সবেতেই এর অবাধ রাজত্ব। কিন্তু প্রতিদিনের রান্নায় যে তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কি আদৌ খাঁটি? নাকি লাভের আশায় মেশানো হচ্ছে মারাত্মক সব রাসায়নিক? বর্তমানে বাজারে ভেজাল তেলের রমরমা এতটাই বেড়েছে যে, তা নীরবে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। রান্নাঘরে থাকা তেলের শুদ্ধতা যাচাই করার বেশ কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে।
অধিক লাভের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা সর্ষের তেলের সঙ্গে পাম অয়েল, সস্তা খনিজ তেল এবং কখনও কখনও ‘মেটানিল ইয়েলো’ নামক এক ধরনের কৃত্রিম রং মিশিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাসায়নিক নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো মারণরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের ক্ষতি, সবই হতে পারে ভেজাল তেলের জন্য।
পাম অয়েল চেনার সহজ উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে ভেজাল ধরার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হল কোল্ড টেস্ট বা ফ্রিজার পরীক্ষা। একটি ছোট কাচের বাটিতে কিছুটা তেল নিয়ে ফ্রিজারে আধ ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর বাটিটি বের করে যদি দেখা যায় তেলের ওপর সাদাটে বা ক্রিমের মতো আস্তরণ জমেছে, তবে বুঝতে হবে তাতে পাম অয়েল বা নিম্নমানের ফ্যাট মেশানো হয়েছে। খাঁটি সর্ষের তেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, তা প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও কখনও জমে যায় না।
রাসায়নিক রঙের দাগ
তেলে ক্ষতিকর রং মেশানো আছে কি না, তা বুঝতে দুই হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে ভালো করে ঘষতে হবে। যদি তালুতে অস্বাভাবিক গাঢ় হলুদ রং লেগে থাকে, তবে তা বিপদের সংকেত। আরও নিশ্চিত হতে সাধারণ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। হাত ধোয়ার সময় যদি হলুদ রং ছাড়তে শুরু করে, তবে সেই তেল অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।
তেলের ঝাঁঝ এবং গন্ধ
আসল সর্ষের তেলের নিজস্ব একটি কড়া ঝাঁঝ থাকে, যা চোখে জল এনে দেয়। বোতল খোলার পর যদি সেই চেনা ঝাঁঝ না মেলে অথবা গরম করার সময় বিকট কোনও গন্ধ বেরোয়, তবে বুঝতে হবে তেলটি নকল। বাজার থেকে সবসময় পরিচিত ও ‘FSSAI’ শংসাপত্র প্রাপ্ত ব্র্যান্ডের তেল কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। বোতলের গায়ে ‘কাচ্চি ঘানি’ বা ‘কোল্ড প্রেসড’ লেখা আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। খোলা তেল কেনা থেকে সর্বদা বিরত থাকা উচিত, কারণ সেখানেই ভেজাল মেশানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একটু সচেতনতা মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।