
রাস্তায় চলাফেরা হোক বা অফিসের কাজের ফাঁকে, ইয়ারবাডস এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম ভরসা। পকেটে বা ব্যাগে খুব সহজেই এই ছোট ডিভাইসটি রাখা যায়। তবে দিনের পর দিন ব্যবহারের ফলে এতে প্রতিনিয়ত ধুলো এবং কানের ময়লা জমতে থাকে। অনেকেই সময়ের অভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু গবেষণা বলছে অপরিষ্কার ইয়ারবাডস ব্যবহার করলে কানের স্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
সম্প্রতি PubMed-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইয়ারফোন ব্যবহারের সঙ্গে কানের বাইরের অংশের সংক্রমণ বা ‘ওটিটিস এক্সটার্না’-র সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে Journal of Audiology & Otology-তে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় ৫১৭ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২১ শতাংশ জানিয়েছিলেন, জীবনের কোনও না কোনও সময়ে তাঁরা ওটিটিস এক্সটার্নায় আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোন ব্যবহার কানের ভিতরে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।
কানের সুস্থতা বজায় রাখতে ইয়ারবাডস পরিষ্কার রাখা জরুরি। বন্ধুদের বা পরিচিতদের সঙ্গে ইয়ারবাডস ভাগ করে নিলে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনাও থাকে। তাই ব্যক্তিগত ইয়ারবাডস অন্যের সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার না করাই ভাল।
তবে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট হওয়ায় এটি পরিষ্কার করার সময় বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়। সামান্য ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করলে সাধের ডিভাইসটি চিরতরে খারাপ হয়ে যেতে পারে। ঘরে বসে নিরাপদে ইয়ারবাডস পরিষ্কার করার বেশ কিছু সহজ নিয়ম রয়েছে।
কী কী ভাবে ইয়ারবাডস পরিষ্কার করবেন?
প্রথমত, বেশিরভাগ ইয়ারবাডসেই সিলিকন বা রবারের ইয়ার টিপস থাকে। শুরুতেই সেগুলি খুব সাবধানে খুলে নিতে হবে। এরপর প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে টিপসগুলি পরিষ্কার করতে হবে। যে মডেলের টিপস সাবান জলে পরিষ্কার করা যায়, সেগুলি সামান্য সাবান জলে ধুয়ে পরিষ্কার জল দিয়ে মুছে নিতে হবে। শেষে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া দরকার।
দ্বিতীয়ত, ইয়ারবাডসের স্পিকারের জালি অংশে সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে। এই অংশের জন্য একটি নরম ও শুকনো ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। আলতো করে ব্রাশ করে সেই ময়লা ঝেড়ে ফেলতে হবে। তবে খুব জোরে ঘষা একেবারেই উচিত নয়, এতে স্পিকারের সূক্ষ্ম অংশের ক্ষতি হতে পারে।
তৃতীয়ত, ইয়ারবাডসের বাইরের অংশ মুছতে একটি নরম মাইক্রোফাইবার বা সুতির কাপড় ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। অনেকেই ইয়ারবাডস পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল বা অন্য কোনও তরল সরাসরি স্প্রে করে থাকেন। তবে এতে তরল ডিভাইসের ভিতরে ঢুকে গিয়ে তা নষ্ট করে দিতে পারে। গ্যাজেট প্রস্তুতকারক সংস্থা সরাসরি ডিভাইসের উপর পরিষ্কার করার তরল স্প্রে করতে নিষেধ করে। ৭০ শতাংশ আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও তা নির্দিষ্ট কিছু শক্ত ও অছিদ্রযুক্ত বাইরের অংশের জন্য প্রযোজ্য। তাই নিজের ইয়ারবাডসের মডেল অনুযায়ী প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা দেখে তবেই কোনও তরল ব্যবহার করা উচিত।
ইয়ারবাডসের চার্জিং কেসের ভিতরেও প্রচুর ধুলো জমে। শুকনো কটন বাড বা নরম, শুকনো কাপড় দিয়ে কেসের ভিতরের অংশটি খুব সাবধানে পরিষ্কার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চার্জিং পিনের জায়গায় যেন কোনওভাবেই আঘাত না লাগে। পরিষ্কার করার পর ডিভাইসটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে তবেই চার্জিং কেসে রাখা উচিত। সঠিক নিয়ম মেনে এই গ্যাজেট পরিষ্কার রাখলে তা যেমন দীর্ঘদিন ভাল থাকবে, তেমনই কানের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করবে।