
ত্বকের সৌন্দর্যে সবচেয়ে বড় শত্রু হল পিগমেন্টেশন (Pigmentation)। অর্থাৎ ত্বকের কালচে দাগ বা অসম রঙ। রোদ, দূষণ, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বয়স, এসবই এর কারণ হতে পারে। তবে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায়েই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই উপায়গুলি।
লেবুর রসে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের দাগ হালকা করে, আর মধু ত্বককে আর্দ্র রাখে। তাই এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রঙ অনেকটাই সমান হবে।
দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। তাই এক চামচ দইয়ের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। পিগমেন্টেশন দূর হবে।
অ্যালোভেরায় থাকা অ্যালোসিন ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন কমায়। তাই রোজ রাতে ঘুমানোর আগে মুখে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রেখে দিন। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে ও দাগ হালকা করে।
শসা ও আলু দুটিই প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট। একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে ভাব কমে। তাই সম পরিমাণ শসা ও আলুর রস মিশিয়ে তুলো দিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
পেঁপেতে থাকা এনজাইম ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে দেয় এবং নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। এর জন্য পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে।
পিগমেন্টেশন রোধের প্রথম ধাপই হল সানস্ক্রিন। বাইরে বেরনোর আগে SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগানো অভ্যাস করতে হবে। শুধু গরমকালেই নয়, বর্ষায় এমনকি শীতকালেও সানস্ক্রিন মাখতে হবে।
গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। ঠান্ডা গ্রিন টি কটন প্যাডে নিয়ে মুখে টোনার হিসেবে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকে শান্তি এনে দেয় ও রঙ সমান করে।
ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি নেই। নিয়মিত ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ত্বক শুধু দাগমুক্তই নয়, হয়ে উঠবে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। তবে হঠাৎ ফলের আশা না করে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ সৌন্দর্য আসে নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে। হুট করে নয়।