
শীতের আমেজ শুরু হতেই বাঙালির রান্নাঘরে ফুলকপির (Cauliflower) রাজত্ব শুরু হয়ে যায়। গরম ধোঁয়া ওঠা পকোড়া থেকে শুরু করে মাছের ঝোল, সবেতেই তার অবাধ যাতায়াত। কিন্তু কেমন হয়, যদি এই টাটকা সবজিটা বাজারের থলিতে না এসে, সরাসরি আপনার নিজের ছাদ থেকে রান্নাঘরে ঢোকে? অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এও কি সম্ভব!
একদম সম্ভব। এর জন্য বিশাল কোনও বাগান বা বিঘা খানেক জমির দরকার নেই। রোদ ঝলমলে ছাদ বা বারান্দার এক কোণেই বড় টবে দিব্যি ফলানো যায় এই সবজি। বাজারের রাসায়নিক দেওয়া সবজির বদলে নিজের হাতের ফ্রেশ সবজি খাওয়ার মজাই আলাদা। জেনে নিন টবে ফুলকপি চাষের সবচেয়ে সহজ উপায়।
কী কী করবেন?
সঠিক টব আর মাটি
গাছটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অন্তত ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি চওড়া ও গভীর টব নিতে হবে। টবের তলায় যেন জল বেরিয়ে যাওয়ার ফুটো থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। না হলে জল জমে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। আর মাটির ক্ষেত্রে ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। বাগানের সাধারণ মাটির সঙ্গে একটু পচানো জৈব সার বা ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে নিলেই কেল্লাফতে।
বীজ বোনার নিয়ম
সরাসরি বড় টবে বীজ না ফেলাই ভালো। প্রথমে ছোট কোনও ট্রে বা বীজতলায় বীজ বুনুন। মাটি সবসময় হালকা ভিজে রাখবেন, তবে কাদা করবেন না। চারায় যখন কয়েকটা পাতা গজাবে আর চারাটা একটু শক্তপোক্ত হবে, তখন সাবধানে সেটিকে তুলে বড় টবে বসান। সবচেয়ে ভালো হয় যদি একটা টবে একটাই গাছ রাখেন। এতে গাছের যত্ন নিতে সুবিধা হয়।
জল, রোদ ও সারের হিসাব
ফুলকপি বড় হওয়ার জন্য রোদ খুব জরুরি। দিনে অন্তত ৪-৬ ঘণ্টা রোদ পায়, টবটি এমন জায়গায় রাখুন। মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে এলে তবেই জল দিন। খুব বেশি সার দেওয়ার দরকার নেই। গাছ একটু বড় হলে অল্প করে জৈব সার দিতে পারেন। কাঁচা গোবর বা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার একদম দেবেন না।
পোকামাকড় আর ফসল তোলা
এই গাছের পাতায় প্রায়ই শুঁয়োপোকা বা ছোট পোকা ধরে। তাই নিয়মিত পাতার তলার দিকটা উল্টে দেখতে হবে। পোকা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন।
বীজ বোনার পর থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত সাধারণত ৭০ থেকে ১০০ দিন সময় লাগে। তাই একটু ধৈর্য ধরতে হবে। ছোট টব, জল জমে থাকা আর রোদের অভাব, এই তিনটি ভুল এড়িয়ে চললেই শীতের মরশুমে আপনার ছাদ ভরে উঠবে নিজের হাতে ফলানো টাটকা ফুলকপিতে। আজই প্রস্তুতি শুরু করে দিন!