
শৈশব মানেই একরাশ আবদার আর নিজের পছন্দের জিনিসের ওপর একচ্ছত্র অধিকার। ছোটরা তাদের প্রিয় চকোলেট, গল্পের বই বা খেলনা অন্য কারও হাতে সহজে ছেড়ে দিতে চায় না- এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বড় হওয়ার পথে এই ‘সবই আমার’ মানসিকতা অনেক সময় তাদের সামাজিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাবা-মায়েরা প্রায়ই চিন্তায় পড়েন, কী করে জেদি সন্তানকে ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বোঝাবেন। কেবল শাসন করে নয়, বরং সহজ কিছু কৌশলে খুদের এই স্বভাব বদলে দেওয়া সম্ভব। একঘেয়ে উপদেশ নয়, আপনার আদরের সন্তানকে ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’ শেখান এভাবে।
শিশুরা যতক্ষণ না বুঝতে পারছে কেন তারা নিজের জিনিস অন্যকে দেবে, ততক্ষণ তারা জেদ ধরে বসে থাকবেই। তাদের বুঝিয়ে বলুন, খেলনা বা খাবার ভাগ করে নেওয়ার অর্থ হলো নতুন বন্ধু পাওয়া। যখন সে দেখবে তার দেওয়া একটা খেলনা দিয়ে অন্য একটি শিশু আনন্দ পাচ্ছে, সেই তৃপ্তিই তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলবে। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর যে আলাদা একটা আনন্দ আছে, তা ছোট থেকেই মনে গেঁথে দেওয়া জরুরি।
বকাঝকা করে যা হয় না, তা রূপকথা বা গল্পের ছলে সহজেই করে ফেলা যায়। খুদেকে এমন সব গল্প শোনান যেখানে চরিত্ররা একে অপরকে সাহায্য করছে বা নিজের জিনিস ভাগ করে নিচ্ছে। বাড়ির বড়দের বা আত্মীয়দের ভালো কাজের উদাহরণও তাদের সামনে তুলে ধরুন। শিশুরা খুব সহজেই অনুকরণ করতে পারে, তাই গল্পের নায়কের মতো হতে গিয়ে তারাও নিজের অজান্তেই উদার হতে শিখবে।
অনেক শিশু মনে করে নিজের খেলনা অন্যকে দিয়ে দেওয়া মানেই সে নিজের অধিকার হারিয়ে ফেলবে। তাদের শেখান যে, অন্যের সঙ্গে খেলা মানে নিজের অধিকার হারানো নয়, বরং আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলা। খেলার মাঝে সমবয়সিদের সুযোগ করে দেওয়া যে হারের লক্ষণ নয়, বরং বড় মনের পরিচয় এই ইতিবাচক বার্তাই তাদের শেখাতে হবে।
মনস্তত্ত্ব বলছে, শিশুরা যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা দ্রুত শেখে। তাই বাবা-মাকে হতে হবে তাদের ‘রোল মডেল’। বাড়িতে বড়রা যদি নিজেদের মধ্যে খাবার বা উপহার ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস রাখেন, তবে সন্তানও তা দেখে শিখবে। কোনও জিনিস কেন আপনি অন্যের সঙ্গে ভাগ করছেন, তার কারণও মাঝেমধ্যে সন্তানের সামনে ব্যাখ্যা করুন।
আপনার সন্তান যদি নিজে থেকে তার ভাই-বোন বা বন্ধুর সঙ্গে কোনও ছোট জিনিসও ভাগ করে নেয়, তবে তৎক্ষণাৎ তার প্রশংসা করুন। সবার সামনে তাকে বাহবা দিলে তার মনোবল বাড়বে। এই প্রশংসার টানেই সে ভবিষ্যতে বারবার এমন ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হবে। মনে রাখবেন, তিরস্কারের চেয়ে পুরস্কার বা সঠিক উৎসাহ শিশুকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।