Heart Attack: হার্ট অ্যাটাক আচমকা হয় না! আগে থেকেই শরীর সংকেত দেয়, ৪ ঝুঁকিই বাড়ায় বিপদ

খারাপ কোলেস্টেরল বা LDL বেশি থাকলে রক্তনালির ভিতরে ধীরে ধীরে চর্বিজাতীয় আস্তরণ বা প্লাক জমতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই প্লাক রক্তনালির পথ সরু করে দেয়। কোনও পরিস্থিতিতে প্লাক ফেটে গেলে রক্ত জমাট বেঁধে দ্রুত রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।

Heart Attack: হার্ট অ্যাটাক আচমকা হয় না! আগে থেকেই শরীর সংকেত দেয়, ৪ ঝুঁকিই বাড়ায় বিপদ
হৃদরোগImage Credit source: PTI

Oct 08, 2026 | 11:07 AM

একদম সুস্থ মানুষ, হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত। আর সব শেষ। বৃহস্পতিবারও অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যু সকলকে নাড়া দিয়েছে সকলকে। আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন তিনি। ৪৫ মিনিট ধরে CPR দিলেও কিছু করা সম্ভব হয়নি। তবে জানেন কি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক আচমকা আসে—এমন ধারণা ভুল। বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের গুরুতর হৃদ্‌রোগের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কিছু ঝুঁকি কাজ করে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন হায়দরাবাদের এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার। তাঁর দাবি, প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হার্ট ফেলিওরের প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগে থেকে কোনও না কোনও ঝুঁকি বা শারীরিক সমস্যা থাকে।

চিকিৎসকের মতে, এই ঝুঁকিগুলি অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরের ভিতরে বছরের পর বছর ক্ষতি করতে থাকে। তাই নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলেও অনেকের কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে তা রক্তনালির ক্ষতি করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খারাপ কোলেস্টেরল বা LDL বেশি থাকলে রক্তনালির ভিতরে ধীরে ধীরে চর্বিজাতীয় আস্তরণ বা প্লাক জমতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই প্লাক রক্তনালির পথ সরু করে দেয়। কোনও পরিস্থিতিতে প্লাক ফেটে গেলে রক্ত জমাট বেঁধে দ্রুত রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগেও অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে রক্তনালিতে প্রদাহ ও ক্ষতির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে, রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমাতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ছেড়ে দিলে সেই ঝুঁকি কমতে শুরু করে।

চিকিৎসকের বার্তা হল, এই চারটি ঝুঁকির বড় অংশই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি ধূমপান বন্ধ করা, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করার পরামর্শও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।

ডা. কুমারের মতে, চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা পিছিয়ে না দিয়ে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিজ্ঞতায়, অনেক স্ট্রোকের ক্ষেত্রেই আগেভাগে ঝুঁকিগুলি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গুরুতর পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা নয়

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, হাত-ঘাড়-চোয়াল বা পিঠে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে গ্যাস বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

 

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us