
রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট। বাসের মধ্যে বসে অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, কিন্তু শৌচাগারে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। অগত্যা দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আবার অনেকে কাজের প্রচণ্ড চাপে কিংবা অপরিষ্কার পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার ভয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখেন। জীবনে কখনও না কখনও এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই মুশকিল। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এইভাবে জোর করে প্রস্রাব (Holding urine) আটকে রাখলে শরীরের অন্দরে ঠিক কী কাণ্ড ঘটতে থাকে? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এই বিষয়ে?
এক ঘণ্টা আটকে রাখলে শরীরে কী ঘটে?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মূত্রথলিতে সাধারণত ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার তরল জমা হতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে বা উপায় না থাকলে শুধুমাত্র এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে শরীরের বড়সড় কোনও ক্ষতি সাধারণত হয় না। তবে এই সময়ে শরীরে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তলপেটে এবং মূত্রথলির আশেপাশে একটি অস্বস্তিকর চাপ তৈরি হতে শুরু করে। মস্তিষ্ক বারবার সংকেত পাঠাতে থাকে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য। যার ফলে কাজের জায়গা থেকে মনোযোগ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি, মূত্রথলির পেশিগুলো অতিরিক্ত তরল ধরে রাখার জন্য অনেকটা প্রসারিত হতে শুরু করে।
কখনও সখনও এক ঘণ্টা আটকে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই (UTI) হওয়ার ঝুঁকি তেমন থাকে না। কিন্তু এটা যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় এবং টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, তবে বড় বিপদের সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলি খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পেয়ে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় মারাত্মক সংক্রমণ।
কিডনির ওপর চাপ
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বারবার প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলির পেশি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে প্রস্রাব করার সময় মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব হয় না। এমনকি দীর্ঘদিনের এই বদভ্যাসের কারণে অতিরিক্ত চাপ ধীরে ধীরে কিডনির দিকে চলে যায়। যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর সঙ্গে প্রস্রাবের মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থগুলি জমাট বেঁধে পাথর তৈরির মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।
তাই শরীর সুস্থ রাখতে, যখনই প্রয়োজন হবে দেরি না করে শৌচাগার ব্যবহার করা উচিত। নিতান্তই বিপদে পড়ে এক আধ ঘণ্টা আটকে রাখলে হয়তো চরম কোনও সমস্যা হবে না। তবে শরীর ভালো রাখতে হলে এই অভ্যাসটি একেবারে এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।