
সামনেই ভাইফোঁটা, কালীপুজো। আর উৎসবের বিশেষ দিনে শেষ পাতে মিষ্টিমুখটাও বিশেষ হওয়া জরুরি। তাই এইবার বানিয়ে ফেলুন কাঁঠাল পাতার মোড়কে তৈরি নরম তুলতুলে ভাপা পিঠে। ভাবছেন বাড়িতে বানানো ঝক্কির? একদমই না। এই নরম তুলতুলে ভাপা পিঠে বানাতে সুজি বা ময়দার কোনও ঝামেলাই নেই। সবচেয়ে বড় কথা, বাড়িতে থাকা মাত্র দু-তিনটি উপকরণ দিয়েই এটি চটজলদি বানিয়ে ফেলা যায়। পদ্ধতি এতটাই সোজা যে, প্রথমবার বানালেও স্বাদ হবে একদম পারফেক্ট।
এক নজরে রেসিপির বিশেষত্ব:
ব্যাটার তৈরির নিয়ম:
২০০ গ্রাম শুকনো চালের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য নুন, তিন চামচ চিনি ও দু’ চামচ কোরানো নারকেল মিশিয়ে নিন। আসল কাজটা কিন্তু ব্যাটারেই। অল্প অল্প গরম জল দিয়ে মাঝারি ঘনত্বের ব্যাটার মাখতে হবে। গরম জলে চালের গুঁড়ো হালকা সেদ্ধ হয়ে যায়, তাই পিঠে ভীষণ নরম হয়। একসঙ্গে বেশি জল ঢালবেন না। মাখা হয়ে গেলে মিশ্রণটি কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে রাখুন।
পুর তৈরি করবেন কীভাবে?
কড়াইতে এক কাপ কোরানো নারকেল আর আধ কাপ গুঁড়ো গুড় দিন। গুঁড়ো গুড় না থাকলে লিকুইড গুড় বা বাতাসাও চলবে। হালকা আঁচে একটু নাড়লেই গুড় গলতে শুরু করবে। সুন্দর গন্ধের জন্য সামান্য এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। একটু আলাদা ফ্লেভার চাইলে সামান্য আদা থেঁতো করেও দিতে পারেন। মাঝারি আঁচে আরও দু-তিন মিনিট নাড়লেই গুড় আর নারকেল মিশে দারুণ পুর তৈরি হয়ে যাবে। একটু শুকনো হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন।
পাতায় মোড়ার সহজ পদ্ধতি:
কয়েকটা তাজা কাঁঠাল পাতা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। পাতার ভিতরের দিকে সামান্য সাদা তেল বা ঘি মাখিয়ে নিলে পিঠে আটকাবে না। এবার পাতার মাঝখানে এক চামচ ব্যাটার আলতো হাতে ছড়িয়ে দিন। চারপাশ একটু ফাঁকা রেখে একপাশে নারকেলের পুর দিন এবং পাতাটা সাবধানে ভাঁজ করে দিন। ব্যাটার আঠালো হওয়ায় পাতা এমনিতেই জুড়ে যাবে।
ভাপানোর পদ্ধতি
কড়াইতে বেশ কিছুটা জল ফুটতে দিন। জল গরম হলে তার উপর একটা ছিদ্রযুক্ত পাত্র (স্টিমার বা চালুনি) বসিয়ে পিঠেগুলো সাজিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে মিডিয়াম থেকে হাই ফ্লেমে ঠিক ১০ মিনিট ভাপে রান্না করুন। গ্যাস বন্ধ করে আরও ৩-৪ মিনিট রেখে দিন। গরম ভাব কমলে পাতা থেকে আলতো করে ছাড়িয়ে নিলেই ভাপা পিঠে খাওয়ার জন্য তৈরি।
বিশেষ টিপস: