
কালীপুজো (Kali Puja) মানেই আলোর উৎসব, আর আলো মানেই বাজি ফাটানোর চূড়ান্ত উন্মাদনা। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই অনেক সময় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বাজি ফাটাতে গিয়ে তুবড়ি বা রংমশাল থেকে বারুদ বা ফুলকি ছিটকে সোজা চোখে ঢুকে যাওয়াটা খুব চেনা একটি দৃশ্য। উৎসবের রাতে এমনটা ঘটলে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঠিক এই বিষয়েই এবার জরুরি পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্পণ সাহা। তাঁর মতে, বাজির বারুদ চোখে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত কয়েকটি সহজ কাজ করা দরকার।
কী কী করবেন?
প্রাথমিক কাজ: জলের ঝাপটা
চিকিৎসক অর্পণ সাহা সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, যদি কখনও বাজির কোনও টুকরো বা বারুদ চোখে চলে যায়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে চোখে ভালো করে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিষ্কার জল দিয়ে বারবার চোখ ধুয়ে নিলে সমস্যা মিটে যায়। তবে একটা বিষয় খুব ভালো করে খেয়াল রাখা দরকার, চোখ জ্বালা করলেও হাত দিয়ে জোরে চোখ রগড়ে ঘষা চলবে না। এতে বিপদ আরও বাড়তে পারে।
জরুরি আই ড্রপ
জল দেওয়ার পরও যদি চোখের অস্বস্তি পুরোপুরি না কাটে, তবে সাময়িক আরামের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ ড্রপ চোখে দিলে জ্বালাভাব অনেকটাই কমে আসে।
কখন চিকিৎসকের কাছে ছুটবেন?
জল দিয়ে চোখ ধোয়ার পর বা ড্রপ দেওয়ার পরও যদি চোখ কুটকুট করে বা টানা জ্বালা করতে থাকে, তবে আর এক মুহূর্তও দেরি করা ঠিক নয়। চিকিৎসক অর্পণ সাহা খুব স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাজির বারুদের মধ্যে অনেক সময় আয়রন বা লোহার গুঁড়ো এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই জিনিসগুলি চোখের কর্নিয়া বা মণির কালো অংশে আটকে গেলে বড় রকমের ক্ষতি হতে পারে। তাই অস্বস্তি হলেই দ্রুত কোনও চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
আলোর উৎসব যেন কারও জীবনে অন্ধকার ডেকে না আনে। বাজি ফাটানোর সময় সতর্ক থাকা ভীষণ জরুরি। বিশেষ করে বাড়ির খুদেরা যখন বাজি ফাটায়, তখন বড়দের সব সময় নজর রাখতে হবে। চোখ অমূল্য সম্পদ, তাই উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চোখের সুরক্ষায় কোনও আপস নয়।