AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Digha: দিঘার থেকে একটু এগিয়েই রয়েছে এক লুকনো সৈকত, কোন রুটে যাবেন পুরো ম্যাপ জেনে নিন

কানাই চট্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এখানকার লাল কাঁকড়ার দল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত নির্জন সৈকত জুড়ে যেন লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে তারা। একটু পায়ের আওয়াজ পেলেই টুপটাপ করে ঢুকে পড়ে নিজেদের খুদে গর্তে, আবার একটু শান্ত হতেই চরে বেড়ায় আপন মনে।

Digha: দিঘার থেকে একটু এগিয়েই রয়েছে এক লুকনো সৈকত, কোন রুটে যাবেন পুরো ম্যাপ জেনে নিন
| Updated on: Jul 08, 2026 | 3:22 PM
Share

দিঘা কিংবা মন্দারমণির চেনা ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল থেকে দূরে, একদম শান্ত-নিরালা কোনও সৈকতে ছুটি কাটানোর প্ল্যান করছেন? লাল কাঁকড়ার বিচ বা বগুরান জলপাইয়ের গল্প তো অনেক শুনেছেন, এবার যাওয়া যাক পূর্ব মেদিনীপুরের এক এক্কেবারে নতুন, আনকোরা ঠিকানায়। কাঁথির খুব কাছেই লুকিয়ে রয়েছে এক মায়াবী সমুদ্রতট, যার নাম ‘কানাই চট্ট’।

ঝাউবনের ছায়া, ম্যানগ্রোভের সবুজ চাদর, ছোট ছোট পুকুর আর মেঠো পথ পেরিয়ে যখন এই রুপোলি সৈকতে এসে দাঁড়াবেন, সমুদ্রের ঠান্ডা হাওয়া আপনার সব ক্লান্তি নিমেষেই উড়িয়ে দেবে।

কানাই চট্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এখানকার লাল কাঁকড়ার দল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত নির্জন সৈকত জুড়ে যেন লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে তারা। একটু পায়ের আওয়াজ পেলেই টুপটাপ করে ঢুকে পড়ে নিজেদের খুদে গর্তে, আবার একটু শান্ত হতেই চরে বেড়ায় আপন মনে। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকায় এই সৈকত এখনও তার আদিম রূপ ধরে রেখেছে। কড়া রোদের পর পড়ন্ত বিকেলে এখানে প্রিয় মানুষের হাত ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের রূপ দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায়। মাঝেসাঝে দূর সমুদ্রে ট্রলারের আনাগোনা ছাড়া আপনার শান্তিতে বিঘ্ন ঘটানোর মতো কেউ নেই এখানে।

আধুনিক ও বিলাসবহুল রিসর্টের জাঁকজমক এখানে এখনও থাবা বসায়নি। সৈকতের কাছাকাছি রাত কাটানোর একমাত্র ঠিকানা হলো একটি চমৎকার ‘বিচ ক্যাম্প’। গাছপালা ঘেরা খোলামেলা পরিবেশে এখানে রয়েছে বড় বড় লাক্সারি তাঁবু। সাধারণ ট্রাভেল ক্যাম্পের মতো এখানে গুঁড়ি মেরে ঢুকতে হয় না, দিব্যি সোজা হয়ে দাঁড়ানো যায়। ভেতরে খাট, নরম বিছানা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই রয়েছে। আর ক্যাম্পের গাছের ছায়ায় বসে তাজা মাছ, কাঁকড়া কিংবা গলদা চিংড়ির খাঁটি বাঙালি পদ দিয়ে ভূরিভোজ—ভ্রমণের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দেবে।

কানাই চট্টের আশেপাশে: কী কী দেখবেন? শুধু সমুদ্র সৈকতে অলস সময় কাটানোই নয়, এখান থেকে একটা অটো বা টোটো ধরে আপনি ঘুরে নিতে পারেন দারুণ কয়েকটি জায়গা।

দরিয়াপুর বাতিঘর (Lighthouse): কাছেই দরিয়াপুর গ্রামে রয়েছে এই লাইটহাউস। সামান্য টিকিট কেটে এর ওপরে উঠলে চারপাশের দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়।

পেটুয়াঘাট মৎস্য বন্দর: এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই মৎস্য বন্দরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত ট্রলার দেখার মতো এক অভিজ্ঞতা।

হিজলি শরিফ ও রসুলপুর নদী: পেটুয়াঘাট থেকে ভেসেলে চেপে রসুলপুর নদী পার হয়ে পৌঁছে যান ঐতিহাসিক হিজলি শরিফে। রোদ পড়ে এলে নদীতে নৌকাবিহারের আনন্দও নিতে পারেন।

কীভাবে পৌঁছাবেন এই রূপকথার সৈকতে? ট্রেনে: হাওড়া বা শালিমার থেকে দিঘাগামী ট্রেনে চেপে নামতে হবে কাঁথি (Contai) স্টেশনে। সেখান থেকে সরাসরি অটো বা টোটো বুক করে চলে যান কানাই চট্ট সমুদ্র সৈকত।

বাসে বা গাড়িতে: কলকাতা থেকে দিঘাগামী বাসে উঠলে নামতে হবে কাঁথির রূপশ্রী বাইপাসে। সেখান থেকে পেটুয়াঘাটগামী ট্রেকার বা অটোয় চেপে চলে আসুন দরিয়াপুর। দরিয়াপুর থেকে টোটো নিলেই পৌঁছে যাবেন কানাই চট্ট। নিজস্ব গাড়ি থাকলে কলকাতা থেকে সরাসরি জিপিএস ম্যাপ ট্র্যাক করেই পৌঁছে যাওয়া যায়।

পরামর্শ: আপনি যদি দিঘা বা মন্দারমণি বেড়াতে যান, তবে যাওয়ার বা ফেরার পথেও দিনে দিনে এই অফবিট সৈকতটি ঘুরে আসতে পারেন। আর যদি নির্জনতা ভালোবাসেন, তবে উইকএন্ডের একটা বা দুটো দিন এই বিচ ক্যাম্পে বুক করে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়াই যায়!

Follow Us