
আজকের মতো আগে কম্পিউটার এত দ্রুতগতির ছিল না। তখন মূলত কমান্ড লাইনের মাধ্যমে কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করা হত। সেই সময় কিবোর্ডের ‘Pause Break’ বোতামের বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
পুরনো কম্পিউটারে কোনও কমান্ড চালানোর পর অনেক সময় স্ক্রিনে একের পর এক তথ্য দ্রুত ভেসে উঠত। এত দ্রুত তথ্য আসত যে সবটা পড়ে ওঠা সম্ভব হত না। তখনই কাজে লাগত ‘Pause’ বোতাম।
এই বোতাম টিপলে স্ক্রিনে চলতে থাকা তথ্য প্রদর্শন সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া যেত। ফলে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পড়তে পারতেন। অর্থাৎ, নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বোতামটির কাজ। ‘Pause’ শব্দের অর্থ সাময়িকভাবে থামানো।
শুধু ‘Pause’ নয়, এই বোতামের ‘Break’ ফাংশনও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুরনো DOS অপারেটিং সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট কিছু সফটওয়্যারে এর ব্যবহার ছিল। সেই সময় কোনও কমান্ড বা প্রোগ্রাম চলাকালীন সেটি বন্ধ করতে ব্যবহার করা হত ‘Ctrl + Break’ শর্টকাট। অর্থাৎ, কোনও প্রক্রিয়া চলতে থাকলে মাঝপথেই সেটিকে থামানোর সুযোগ মিলত।
বিশেষ করে প্রোগ্রামিং এবং প্রযুক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে এই ফাংশন অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ‘Ctrl + C’ কিংবা টাস্ক সাহায্যে চলতে থাকা প্রক্রিয়া বন্ধ করা যায়। ফলে ধীরে ধীরে ‘ব্রেক’ বোতামের প্রয়োজনীয়তা কমেছে।
অনেকেই মনে করেন, আধুনিক কম্পিউটারে ‘Pause Break’ বোতামের আর কোনও কাজ নেই। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। উইন্ডোজ কম্পিউটারে এখনও নির্দিষ্ট কিছু শর্টকাটে এই বোতাম ব্যবহার করা যায়। যেমন, ‘Windows + Pause/Break’ একসঙ্গে চাপলে অনেক উইন্ডোজ সংস্করণে সরাসরি সিস্টেম সংক্রান্ত তথ্যের পেজ খুলে যায়। সেখানে কম্পিউটারের RAM, প্রসেসর এবং উইন্ডোজের সংস্করণ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা যায়। তবে উইন্ডোজের সংস্করণ অনুযায়ী এই শর্টকাটের কাজ কিছুটা আলাদা হতে পারে। এছাড়া পুরনো কিছু গেম এবং সফটওয়্যারেও এই বোতাম ব্যবহার করে কাজ সাময়িকভাবে থামানো যেত। যদিও আধুনিক সফটওয়্যারগুলিতে সাধারণত আলাদা শর্টকাট ব্যবহার করা হয়।