
মোবাইল ফোন (Mobile Phone) প্যান্টের পকেটে রাখা বা কোলের ওপর ল্যাপটপ (Laptop) রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা, আজকালকার দিনে এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি অভ্যাস। কিন্তু আপনি কি জানেন, রোজকার এই ছোট্ট অভ্যাসটি পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বা স্পার্ম হেলথের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে? শুনতে বেশ চিন্তার বিষয় মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে রীতিমতো সতর্ক করছেন।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যান্টের পকেটে স্মার্টফোন রাখলে তা থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক এনার্জি প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ল্যাপটপ কোলে রেখে কাজ করলে তার গরম সরাসরি পুরুষদের অণ্ডকোষে পৌঁছায়। ডিরেক্টর ও সিনিয়র রেডিওলজিস্ট ড. কে. কে. মিশ্র জানিয়েছেন, পকেটে মোবাইল রাখা এবং কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা, এই দু’টি অভ্যাসের ফলেই স্পার্ম হেলথ বা শুক্রাণুর স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। এর প্রধান দু’টি কারণ হল, অতিরিক্ত তাপ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন।
ক্ষতিটা ঠিক কীভাবে হয়?
মানবদেহের প্রাকৃতিক গঠন অনুযায়ী, পুরুষদের অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে। এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রাতেই সুস্থ শুক্রাণু তৈরি হয়। কিন্তু কোলে ল্যাপটপ রাখলে এর থেকে যে তাপ বের হয়, তা ওই অংশের তাপমাত্রা ১ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শুক্রাণুর সংখ্যা এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর। একইভাবে, প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখার ফলে যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়, তার প্রভাবেও শুক্রাণুর গুণমান ক্রমশ কমতে থাকে।
গবেষণা কী প্রমাণ দিচ্ছে?
বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণাতেও এই আশঙ্কার পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে। ‘পাবমেড’-এ প্রকাশিত ২০০৮ এবং ২০১০ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, টানা মাত্র ১১ মিনিট কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করলেই ওই অংশের তাপমাত্রা প্রায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়।
মোবাইল ফোন নিয়েও একই ধরনের গবেষণা হয়েছে। প্রজনন সমস্যায় ভোগা ৩৬১ জন পুরুষের ওপর করা একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা সারাদিন দীর্ঘক্ষণ সেলফোনের সংস্পর্শে থাকেন বা পকেটে ফোন রাখেন, তাঁদের শুক্রাণুর সংখ্যা, সক্রিয়তা এবং জীবনকাল অনেকটাই কমে গিয়েছে।
ক্ষতি থেকে বাঁচবেন কীভাবে?
প্রজনন ক্ষমতা সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি: