
বাঙালির দুপুরের ভাত হোক বা রাতের রুটি- পাতে এক বাটি সবজি না থাকলে কি আর শান্তি মেলে? সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বাজার থেকে বেছে বেছে টাটকা আনাজ কিনে আনি। কিন্তু সেই সবজিই যদি আপনার শরীরের জন্য মারণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়? ভাবছেন তো, ধুয়ে রান্না করলেই সব পরিষ্কার? একদমই নয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। বেঙ্গালুরু ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাজার থেকে সংগৃহীত সবজির নমুনায় পাওয়া গিয়েছে মারাত্মক মাত্রার সিসা(Lead)। যা শুধু বড়দের নয়, আপনার বাড়ির ছোট্ট শিশুটির ভবিষ্যতের জন্যও চরম আশঙ্কাজনক।
কী জানাচ্ছে রিপোর্ট?
গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB) একটি বিশেষ রিপোর্ট জমা দিয়েছে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালের কাছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ৭২ ধরনের সবজির নমুনার মধ্যে ১৯টিতেই বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা মিলেছে। এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের (FSSAI) অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে। অর্থাৎ, তথ্যের সত্যতা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।
কোন সবজিতে বিপদ সবচেয়ে বেশি?
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বেগুনের। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি কেজি বেগুনে সিসার পরিমাণ প্রায় ১.৯৫৩ মিলিগ্রাম। অথচ শরীরে এর নিরাপদ মাত্রা হওয়া উচিত মাত্র ০.১ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি বিষ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এই সবজি! তালিকায় শুধু বেগুন নেই, রয়েছে লাউ, শিম বিট বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম (বেল পেপার), কাঁচালঙ্কা ও শসা। এমনকি পাটপাতা বা স্কোয়াশের মতো আনাজও বাদ যায়নি তালিকা থেকে।
শুধু ভারী ধাতুই নয়, ৭০টি নমুনার মধ্যে অন্তত ১০টিতে সহনসীমার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় কীটনাশক পাওয়া গিয়েছে।
কেন ধুয়েও কাজ হবে না?
সাধারণত আমরা মনে করি, সবজি ভালো করে ধুয়ে বা খোসা ছাড়িয়ে রান্না করলে সব জীবাণু চলে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন অন্য কথা। দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিবেক জৈনের মতে, এই দূষণ মাটি বা জলের গভীরে থাকে। যখন গাছ বড় হয়, তখন শিকড়ের মাধ্যমে এই সীসা সরাসরি গাছের কোষে ঢুকে যায়। ফলে আপনি হাজার ধুয়েও সেই বিষ সরাতে পারবেন না।
শিশুদের জন্য কেন এটি বড় আতঙ্ক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, সিসা দূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই বিপদ বহুগুণ বেশি। শিশুদের শরীরে সিসা ঢুকলে:
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হল, শরীরে সিসার মাত্রা কতটা বাড়ল, তা সাধারণ লক্ষণ দেখে বোঝার উপায় নেই। এটি জানার একমাত্র রাস্তা হল রক্ত পরীক্ষা। তাই বাজার থেকে আনাজ কেনার সময় এবং খাওয়ার আগে আরও সচেতন হওয়া ছাড়া আপাতত কোনও সহজ উপায় নেই।