
দীপাবলির আলোয় সেজে উঠছে চারপাশ। বাংলার বহু বনেদি বাড়ি এবং প্রাচীন কালীবাড়িতে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের এক প্রাচীন ঐতিহ্য। শাক্ত মতে দেবীর আরাধনায় আজও সেখানে প্রথা মেনে পাঁঠা বলির চল রয়েছে। দেবীর সামনে বলিদানের পর সেই মাংস রান্না হয় সম্পূর্ণ নিরামিষ পদ্ধতিতে। ভোগের এই মাংসে পেঁয়াজ-রসুনের কোনও জায়গা নেই, কিন্তু এর স্বাদ হয় একেবারে অমৃতের মতো।
মায়ের ভোগের এই রান্নার পদ্ধতি খুব একটা কঠিন নয়। রান্নার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে মশলার ব্যবহার আর মাংস কষানোর কায়দায়। সামনেই কালীপুজো, তাই উৎসবের দিনে চাইলে আপনিও নিজের হেঁশেলে এই নিরামিষ মটন তৈরি করতে পারেন। কীভাবে রাঁধবেন? জেনে নিন রেসিপি।
রান্নার জন্য কী কী উপকরণ লাগবে?
প্রধান উপকরণ: খাসির মাংস (ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নেওয়া)।
ম্যারিনেশনের জন্য: টক দই, নুন, হলুদ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো আর রঙের জন্য কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো।
তেল ও ফোড়ন: খাঁটি সর্ষের তেল। ফোড়নের জন্য গোটা জিরে, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা আর গোটা গরম মশলা।
স্বাদের ম্যাজিক: আদা বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, সামান্য চিনি, ঘি এবং গুঁড়ো গরম মশলা।
রান্নার পদ্ধতি জেনে নিন ধাপে ধাপে:
ম্যারিনেশন: প্রথমে জল ঝরানো মাংসের সঙ্গে টক দই, নুন, হলুদ, ধনে-জিরে গুঁড়ো আর কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। উপর থেকে বেশ কিছুটা কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে মাংসটা মেখে অন্তত ঘণ্টা দুয়েক রেখে দিন।
ফোড়ন দেওয়া: কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে অল্প ঘি আর সামান্য চিনি দিন। চিনি গলে লালচে রং ধরলে তেজপাতা, গোটা জিরে আর থেঁতো করা গরম মশলা ফোড়ন দিন।
মশলা কষানো: মশলার সুগন্ধ বেরোলে আদা ও কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে দিন। মশলাটা একটু ভাজা ভাজা হলে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস কড়াইতে ঢেলে দিন।
আসল জাদু কষানোয়: এই রান্নার আসল স্বাদ লুকিয়ে আছে কষানোর মধ্যে। একটু সময় নিয়ে, ধৈর্য ধরে মাংস কষাতে হবে। যখন দেখবেন মাংস থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে, বুঝবেন আপনার কষানো একেবারে নিখুঁত হল।
শেষ পর্যায়: এবার মাংসটা প্রেসার কুকারে ঢেলে পরিমাণমতো গরম জল দিয়ে কয়েকটা সিটি দিয়ে নিন। মাংস নরম হয়ে গেলে ঢাকনা খুলে উপর থেকে এক চামচ ঘি আর গুঁড়ো গরম মশলা ছড়িয়ে দিন।
স্বাদ দ্বিগুণ করার সিক্রেট টিপস: