
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই তাকে সুন্দর করে তোলার জন্য অভিভাবকদের প্রচেষ্টার অন্ত থাকে না। বিশেষ করে অনেক পরিবারে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, নবজাতকের নাকে নিয়মিত তেল দিয়ে মালিশ করলে বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চাপ দিলে নাক টিকালো ও সুন্দর হয়। এমনকি বাজারেও এখন বিভিন্ন ধরণের ‘নোজ শেপার’ নামক যন্ত্র পাওয়া যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত? এই বিষয়ে সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ অর্পণ সাহা।
ডাঃ সাহার মতে, শিশুর নাকের গঠন কেমন হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তার মা-বাবার জিনের (Genetics) ওপর। মা বা বাবার মধ্যে কারও নাক যদি টিকালো হয়, তবে সন্তানের নাকও তেমনই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে গঠনটি যদি কিছুটা ভোঁতা বা চ্যাপ্টা হয়, তবে শিশুর ক্ষেত্রেও তা-ই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কোনও প্রকার বাহ্যিক মালিশ বা কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করে এই প্রাকৃতিক গঠনকে বদলে দেওয়া আদতে সম্ভব নয়।
আরও একটি জরুরি বিষয় ডাঃ অর্পণ সাহা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে জন্মের পর শিশুদের নাকের ওপরের অংশটি সাধারণত কিছুটা চাপা থাকে। এর কারণ নাকের এই হাড় বা কার্টিলেজ (Cartilage) অত্যন্ত নরম থাকে। এই কার্টিলেজ সম্পূর্ণভাবে গঠিত হতে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ অতি উৎসাহী হয়ে নাক টেপা বা মালিশ করার চেষ্টা করেন, তবে সেই নরম হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ধরণের অবৈজ্ঞানিক চেষ্টার ফলে হাড় ড্যামেজ হয়ে শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে বা লোকমুখে শুনে ‘নোজ শেপার’ বা অতিরিক্ত মালিশের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির ওপর ভরসা রাখাই হবে বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে শ্রেয় কাজ।