
কন্যাকুমারী: লোকসভা নির্বাচন শেষ। ৭ম অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্বের নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ করেই ধ্যানে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ৩০ মে থেকে ১লা জুন বিকাল পর্যন্ত কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে ধ্যান করেন তিনি। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদীর ধ্যানে বসার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও লোকসভা ভোটের সময় কেদারনাথ ধামের কাছে একটি গুহায় ধ্যান করেন তিনি। তবে এবার কেন প্রধানমন্ত্রী কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক বেছে নিলেন, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রকের অবশ্য বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
রাজনৈতিক কারণ বাদ দিলেও কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কন্যাকুমারীতে সমুদ্রের মাঝে যে স্থলভাগটিতে ধ্যানে বসেন, সেখানে স্বামী বিবেকানন্দও ধ্যান করেছিলেন। যার থেকে ওই জায়গাটির নাম হয়, ধ্যান মণ্ডপম।
স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে এই ধ্যান মণ্ডপম স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
কথিত আছে যে, ১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম পরিষদে যোগদান দিতে যাওয়ার আগে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি সমুদ্র থেকে ৫০০ মিটার দূরে জলের উপর একটি বিশাল পাথর ভাসতে দেখেন। স্বামী বিবেকানন্দ সাঁতরে সেই পাথরে পৌঁছন এবং সেখানে তিনি প্রায় ৩ দিন ধ্যান করেন। এরপর শিকাগো বিশ্ব ধর্ম পরিষদে বক্তৃত্বা দিয়ে বিশ্বের দরবারে বিশেষ নজর কাড়েন তিনি। তারপর পরবর্তীকালে ওই স্থান বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল হিসাবে গড়ে তোলা হয় এবং বিবেকানন্দের মূর্তিও স্থাপিত হয়।
ভৌগলিক কারণ
ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এপ্রিল মাসে চৈত্র পূর্ণিমার দিন এখানে এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যায়। সূর্য এবং চাঁদ- উভয়ই আকাশে মুখোমুখি দেখায়। বর্তমানে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল একটি বড় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কীভাবে কন্যাকুমারী পৌঁছবেন?
রেল এবং সড়ক- উভয়পথ দ্বারাই সংযুক্ত কন্যাকুমারী। এটি ত্রিবান্দ্রম থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে। চেন্নাই এবং ত্রিবান্দ্রম থেকে ট্রেন বা বাসেও যাওয়া যায়। আপনি যদি নিজের গাড়িতে যান, তাহলে চেন্নাই পৌঁছানোর পর সরাসরি গাড়ি চালিয়ে এখানে যেতে পারেন।