Gk: জানেন কোন সামুদ্রিক প্রাণীর কোনওদিন মৃত্যুই হয় না?

Unknown Facts: রূপকথার গল্পে হামেশাই এমন চরিত্র থাকে, যাদের কখনও মৃত্যু হয় না। কিন্তু বাস্তবের পৃথিবীতেও এমন এক প্রাণীর বাস রয়েছে, যে দিব্যি মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে চলেছে। বয়স বাড়লেই ম্যাজিকের মতো নিজেদের শরীরকে আবারও শিশু অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে এরা। সমুদ্রের গভীরে থাকা এই অমর প্রাণীর রহস্য ঠিক কী? জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়।

Gk: জানেন কোন সামুদ্রিক প্রাণীর কোনওদিন মৃত্যুই হয় না?
জানুন বিস্তারিতImage Credit source: Photo Getty Images

Oct 13, 2026 | 4:04 PM

যদি এমন কোনও রিমোট কন্ট্রোল থাকত, যার একটা বোতাম টিপলেই আবার ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া যায়? তবে কেমন হত বলুন তো! তাহলে তো আর বয়স বাড়ার চিন্তাই থাকত না। বাস্তবে মানুষের হাতে এমন ম্যাজিক না থাকলেও, সমুদ্রের গভীরে থাকা এক প্রাণীর কাছে কিন্তু ঠিক এমনটাই রয়েছে। বয়স বাড়লে বা শরীর খারাপ হলেই এরা নিজেদের একেবারে শিশু অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আর সেই কারণেই এদের কখনও মৃত্যু হয় না!

এই বিস্ময়কর প্রাণীটি আসলে এক বিশেষ প্রজাতির জেলিফিশ। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের নাম ‘টুরিটোপসিস ডোরনি’ (Turritopsis dohrnii)। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এরা ‘অমর জেলিফিশ’ নামেই বেশি জনপ্রিয়। নামের এত বড় বহর দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এরা কিন্তু আকারে একেবারেই খুদে। লম্বায় মাত্র ৪ থেকে ৫ মিলিমিটার! ভূমধ্যসাগরের জলেই এদের বেশি দেখা যায়। তবে এখন বিশ্বের অন্যান্য মহাসাগরেও এদের খোঁজ মিলেছে।

কীভাবে এরা মৃত্যুকে ফাঁকি দেয়? বিষয়টা অনেকটা ভিডিয়ো গেমের ‘চিট কোড’ ব্যবহার করার মতো! বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই জেলিফিশের শরীরে এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। যখন এরা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে, আঘাত পায় বা বয়স বেড়ে যায়, তখন এরা সোজা সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়। সেখানে গিয়ে নিজেদের কোষগুলোকে একেবারে নতুন করে তৈরি করে ফেলে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ট্রান্সডিফারেন্সিয়েশন’। অর্থাৎ, বুড়ো বয়স থেকে সোজা আবার ‘পলিপ’ বা ছোট্ট শিশু হয়ে যাওয়া! এরপর সেই শিশু অবস্থা থেকে আবারও নতুন করে জীবন শুরু করে এই জেলিফিশ।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের নজরে রয়েছে ছোট্ট এই প্রাণীটি। স্পেনের ওভিয়েডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি এদের ডিএনএ (DNA) নিয়ে একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাধারণ জেলিফিশের তুলনায় এদের জিনে এমন কিছু বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা কোষের বয়স কিছুতেই বাড়তে দেয় না। উলটে খুব তাড়াতাড়ি ডিএনএ মেরামত করে শরীরকে একেবারে সতেজ করে তোলে।

খাবারের অভাব হোক বা অন্য কোনও বিপদ, এই জেলিফিশ খুব সহজেই নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে। সমুদ্রের অন্য কোনও বড় প্রাণী যদি এদের না খেয়ে ফেলে, তবে এরা অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই অমর জেলিফিশকে নিয়ে আরও গবেষণা হলে ভবিষ্যতে মানুষের বার্ধক্য ঠেকানোর নতুন কোনও উপায় হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে। কে বলতে পারে, সমুদ্রের এই খুদে প্রাণীটিই হয়তো আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বড় কোনও ম্যাজিক দেখাবে!

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us