
প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে, বাঁধন খুলে দাও, দাও দাও দাও… প্রেমে পড়লে এই গানের কলি বাজতে থাকে মনে। আর সেই প্রেমের বাঁধন আলগা নয়, যদি একেবারেই ভেঙে যায়, তা হলে? প্রেম ভাঙলে অনেকে কষ্টের সাগরে ডুব দেয়। প্রেমে ‘ধোঁকা’ খেলে যন্ত্রণায় মন উথাল-পাতাল হতে থাকে। অনেকে ব্রেক আপ হলে সব ভুলে নতুন জীবনে সহজেই এগিয়ে যায়। কেউ কেউ এর পুরো উল্টো। সম্পর্কে যার অনুভূতি যতটা গভীর হয়, বিচ্ছেদ হলে তার যন্ত্রণা ততটাই বেশি হয়। কেউ কেউ ব্রেক আপ হলে মুষড়ে পড়েন। আবার কেউ ডুব দেন অবসাদের মহাসমুদ্রে। বিচ্ছেদ মানেই কষ্টকর। কিন্তু ব্রেক আপ হয়েছে মানেই জীবনটা ছারখার করে দিতে হবে, তেমনটাও নয়। মনোবিদদের মতে ব্রেকআপের পর কয়েকটি কাজ করলে, অতীত ভুলে ভবিষ্যতে যে কেউ ফোকাস করতে পারবেন। জেনে নিন সেই কাজগুলি কী কী।
১) শখ পূরণ করা – ছেলেবেলা থেকে বড় হওয়ার পথে অনেকের নানা শখ তৈরি হয়। আবার বেশ কিছু শখ সময় এগোতে এগোতো হারিয়েও যায়। ব্রেক আপ হওয়ার কষ্ট লাঘব করার জন্য জীবনের সেই ভালোলাগাগুলো, শখগুলো পূরণ করার চেষ্টা করতে পারেন। কারও গান গাইতে, ছবি আঁকতে, বাগান পরিচর্যা করতে ভালো লাগে। কিন্তু নিজেকে তা থেকে কোনও না কোনও কারণে যদি সরিয়ে রাখেন, আবার সেখানে ফিরতে হবে। নিজেকে ভালো রাখলে বিচ্ছেদের কষ্ট খানিক ভোলা সম্ভব হয়।
২) প্রিয় মানুষ, আত্মীয়, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো – ব্রেক আপের পর একা একা একটা রুমে বসে না থেকে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আত্মীয় বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। কখনও একটা সিনেমা দেখতে যেতে পারেন বন্ধুদের সঙ্গে। আবার ছোট্ট করে একটি কাছে-পিছে ট্রিপেও যেতে পারেন। নিজেকে এই ভাবে ভালো রাখার চেষ্টা করলে, কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বললে মন হালকা লাগতে পারে।
৩) নিজেকে বোঝাতে হবে – ব্রেক আপ হলে নিজেকে বোঝাতে হবে যে, যার জন্য কষ্ট হচ্ছে সে কি সত্যিই আপনার যোগ্য ছিলেন? আদৌ তিনি কি কখনও সত্যিই ভালোবেসেছিলেন? জীবন অনেক লম্বা। সময় মতো মনের মানুষ ঠিক আসে। তার অপেক্ষা করতে পারেন।
৪) এক্স বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না রাখা – ব্রেক আপ হওয়ার পর অনেকে নিজের এক্স বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ডের পুরনো ছবি বা বর্তমান ছবি দেখে চোখের জল ফেলেন। নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এগুলো করা ঠিক নয়। তাতে মন আরও অশান্ত হয়ে পড়ে। মনের কষ্ট ডায়েরিতেও লিখে রাখতে পারেন।
৫) অন্য কাজে মন দেওয়া – মন খারাপ হলে, আরও ভালো করে বললে মানসিক কষ্ট হলে, তা ভুলে যাওয়ার অন্যতম উপায় নিজের কাজে মন দেওয়া। ব্রেক আপ হলে নিজেকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। পেশাদার জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবন মিলিয়ে দিলে চলবে না। মন দিয়ে কাজ করলে কাজের জগতে প্রশংসা পাওয়ার সম্ভবনা থাকবে। তাতে মন ভালো হবে।