
সকালবেলায় আলসেমি মাখা ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে— ‘আজ টিফিনে কী হবে?’, ‘দুপুরের রান্নার সময় আছে তো?’ এই ইঁদুর দৌড়ে হার মানতে হয় অনেককেই। শুধু রান্নার জন্য সময় বের করতে গিয়ে নিজের জন্য টুকু সময় থাকে না। কিন্তু স্মার্ট গৃহিণী বা কর্মব্যস্ত পুরুষ, সবার জন্যই রান্নাঘর সামলানোর কিছু ‘ম্যাজিক ট্রিকস’ আছে। প্রস্তুতির অঙ্কটা যদি একটু কষানো থাকে, তবে হেঁশেলের সময় কমবে অনেকটাই।
মশলা কষানো
বাঙালি রান্না মানেই মশলা কষানো হয় বেশ সময়সাপেক্ষ। এই খাটনি কমাতে একদিন সময় করে পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা আর টমেটো দিয়ে বেশ খানিকটা মশলা কষিয়ে রেখে দিন। পনিরের তরকারি হোক বা কষা মাংস— স্রেফ ফ্রিজ থেকে বার করে কড়াইতে দিলেই কেল্লাফতে। স্বাদের বদল আনতে শুকনো খোলায় ভাজা চিনেবাদাম, রসুন আর ধনেপাতা দিয়ে একটি স্পেশাল পেস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন। ডিমের ঝোলে এটি ব্যবহার করলে স্বাদ হবে হোটেলের মতো।
সবজি কাটা
অনেকেই রান্না করতে ভালোবাসেন কিন্তু সবজি কাটতে গেলেই তাদের জ্বর আসে। এর সহজ সমাধান হলো ‘প্রি-কাটিং’। ছুটির দিনে বিনস, ব্রকোলি বা গাজর কেটে হালকা ভাপিয়ে বা কাঁচাই এয়ারটাইট ব্যাগে ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন। সকালে স্রেফ কড়াইতে তেল দিয়ে নাড়াচাড়া করলেই স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি। আলু বা কুমড়োও কেটে জিপলক ব্যাগে রাখলে দিন তিনেক দিব্যি টাটকা থাকে।
ডিম সেদ্ধ
ডিম হল বিপদের বন্ধু। চার-পাঁচটা ডিম একবারে সেদ্ধ করে খোসাসুদ্ধ ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে স্যান্ডউইচ হোক বা রাতে চটজলদি কারি— সেদ্ধ ডিম থাকলে দোনামনা করতে হয় না। এমনকি পাস্তা বা নুডলসও সেদ্ধ করে সামান্য সাদা তেল মাখিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। খুদেকে টিফিন দেওয়ার সময় শুধু সবজি দিয়ে সতে করে নিলেই কাজ শেষ।
শরবত কিউব
গরমে বাইরে থেকে ফিরে লেবু জল বা লস্যি বানানোর ধৈর্য থাকে না। তাই আগেভাগেই লস্যি বা তরমুজের রস করে বরফের ট্রে-তে জমিয়ে রাখুন। অফিস থেকে ফিরে গ্লাসে কিউবগুলো ফেলে একটু জল আর নুন-চিনি মিশিয়ে নিলেই এক গ্লাস স্বর্গীয় শান্তি!
সবশেষে মনে রাখবেন, রান্না কেবল খাটনি নয়, একটু বুদ্ধি খরচ করলে এটা একটা শিল্প। তাই কৌশলগুলো আজই কাজে লাগিয়ে দেখুন, দিনের শেষে নিজের জন্য অন্তত আধঘণ্টা বেশি সময় বাঁচবে।