
দুপুরে জমিয়ে মাছ-ভাত খাচ্ছেন কিংবা রাতে রুটি-তরকারি, পাতের পাশে জলের গ্লাসটি থাকা চাই-ই চাই। আর দু-গ্রাস খাওয়ার পরেই জল খাওয়া অনেকেরই জন্মগত অভ্যাস। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই একটি ভুল অভ্যাসের কারণে আপনি প্রতিদিন নিজের অজান্তেই শরীরের বারোটা বাজাচ্ছেন। সারাদিনে ৩ থেকে ৪ লিটার জল খাচ্ছেন কিনা, তার হিসাব রাখলেও, ঠিক কোন সময়ে জল খাচ্ছেন, সেই খেয়াল রাখেন না অনেকেই। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের আসল চাবিকাঠি।
কেন খাওয়ার সময় জল খাওয়া ‘বিষ’?
খাদ্যবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যা খাচ্ছেন তা হজম হতে সাধারণত প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। খাবার পেটে যাওয়ার পর তা হজম করার জন্য শরীরে কিছু বিশেষ উৎসেচক বা পাচক রস নিঃসৃত হয়। এখন আপনি যদি খাবারের সঙ্গে সঙ্গেই ঢক ঢক করে জল খেতে থাকেন, তবে সেই পাচক রস জলের সঙ্গে মিশে পাতলা হয়ে যায়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে পারে না।
চিকিৎসকদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অভ্যাসের ফলে শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়:
হজমের দফারফা ও গ্যাস: খাবার ঠিকমতো না হজম হওয়ার কারণে পেটে গ্যাস, অম্বল এবং ব্লোটিং বা পেট ফোলার মতো সমস্যা নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।
ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা: পরিপাকক্রিয়া ব্যাহত হলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজনে। মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে এই অভ্যাস।
রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি: খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে পুষ্টিগুণ রক্তে মেশার প্রক্রিয়ায় গোলমাল দেখা দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জল পানের সঠিক সময় কোনটি?
তাহলে উপায়? শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ পুরোপুরি গ্রহণ করতে জল পানের টাইমিং বদলাতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন:
খাওয়ার আগে: খাবার খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে জল খেয়ে নিন। এতে পরিপাকতন্ত্র সতেজ থাকে।
খাওয়ার পরে: খাবার শেষ করার ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর জল পান করুন। এই সময়টুকুর মধ্যে পাকস্থলী তার প্রাথমিক হজমের কাজ সেরে ফেলে।
সঠিক সময়ে জল পানের অভ্যাস যদি মাত্র ২১ দিন নিয়ম মেনে করা যায়, তবে ম্যাজিকের মতো তফাত চোখে পড়বে।
১. ওজন নিয়ন্ত্রণ: সঠিক সময়ে জল খেলে মেটাবলিজম বাড়ে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করে।
২. পুষ্টির সঠিক শোষণ: পেটের পাচক রস সক্রিয় থাকায় শরীর খাদ্যে উপস্থিত সমস্ত ভিটামিন ও খনিজ ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
৩. গ্যাস-কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি: অম্বল বা গ্যাস রিফ্লাক্সের সমস্যা দূর হয় এবং পরিপাকতন্ত্র মজবুত থাকে।
৪. ভালো ঘুম: হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলে রাতে শরীর হালকা থাকে, যা ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
তাই আজ থেকেই পাতের পাশের জলের গ্লাসটি একটু দূরে রাখুন। সুস্থ থাকার চাবিকাঠি কিন্তু আপনারই হাতে!