
কখনও কাঠফাটা রোদ তো পরক্ষণেই মেঘের গর্জন, প্রকৃতির এই খামখেয়ালি মেজাজে ঘরের ঘরে এখন একটাই গল্প। হাঁচি, কাশি আর জ্বরের দাপট। আবহাওয়ার এই দোলাচলে শরীর যখন তাল মেলাতে পারে না, তখনই সুযোগ খোঁজে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ারা। কিন্তু মুশকিল হল, সামান্য গলা ব্যথা বা গা গরম হলেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খেতে শুরু করেন। আর এখানেই লুকিয়ে আছে বড় বিপদ। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, শরীরকে কৃত্রিমভাবে লড়াই করতে না শিখিয়ে বরং এমনভাবে চাঙ্গা করে তুলুন, যাতে কোনও সংক্রমণই কাছে ঘেঁষতে না পারে।
কী কী মেনে চলবেন?
অহেতুক ওষুধ খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। তার চেয়ে বরং প্রাকৃতিক উপায়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা অনেক বেশি কার্যকর। সংক্রমণের এই মরসুমে সুস্থ থাকার প্রথম পাঠ শুরু হোক পরিচ্ছন্নতা দিয়ে। সারাদিনে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হাতের নাগালে জল না থাকলে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, হাত থেকেই বেশিরভাগ জীবাণু পেটে বা শরীরে প্রবেশ করে।
আপনার রান্নাঘরই হতে পারে সেরা ডিসপেনসারি। মরসুম বদলের সময় ডায়েটে আমূল বদল আনা প্রয়োজন। পাতে রাখুন প্রচুর শাকসবজি ও বাদাম। বিশেষ করে লেবু জাতীয় ফল, যা ভিটামিন সি-তে ভরপুর, তা এই সময়ে নিয়মিত খাওয়া উচিত। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রস্তুত রাখতে ভিটামিন ডি-ও অত্যন্ত জরুরি। শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি একবার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, তবে ভাইরাল জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না।
সুস্থ থাকতে জলের কোনও বিকল্প নেই। সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বেরিয়ে যায়। এর ফলে আপনার শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং বায়ুবাহিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে। একইসঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। চিকিৎসকদের মতে, দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুম আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মেরামতির কাজ করে। এর সঙ্গে নিয়ম করে হালকা শরীরচর্চা যোগ করলে শরীর আরও সচল ও সতেজ থাকবে।
শুধু শরীর নয়, নজর দিন বাড়ির ওপরও। ঘরের যে জায়গাগুলো হাত দিয়ে বেশি ছোঁয়া হয়- যেমন দরজার হাতল, লাইটের সুইচ বা স্মার্টফোনের স্ক্রিন- সেগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন। সাধারণ এই নিয়মগুলো মেনে চললেই আপনি আর আপনার পরিবার মরসুমি অসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। ওষুধের দোকানে ছোটার আগে একবার নিজের জীবনযাত্রার দিকে তাকিয়ে দেখুন, সমাধান সেখানেই আছে।