
গ্রীষ্মকাল (Summer Season) এলেই গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। চড়া রোদের কারণে রান্নাঘর থেকে নামাতে না নামাতেই যেন তরকারিতে টক গন্ধ হয়ে যায়! অনেক সময় রাতের জন্য একটু বেশি রান্না করলেই তা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তীব্র গরমে ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে, সামান্য অসাবধানতাতেই পছন্দের পদটি টক হয়ে মুখ নষ্ট করে। কিন্তু কিছু সহজ ঘরোয়া কৌশল জানা থাকলে এই মারাত্মক গরমেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার একদম ফ্রেশ ও পুষ্টিকর রাখা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক খাবার ভালো রাখার সেই ম্যাজিক টিপস।
আজকাল ঘরে ঘরে ফ্রিজ থাকলেও অনেক সময়ই লোডশেডিং বা অন্য কোনও সমস্যায় তা কাজ করে না। যাদের বাড়িতে ফ্রিজ নেই, তারা একটি বড় গামলায় ঠান্ডা জল ঢেলে তার মধ্যে খাবারের বাটিটি বসিয়ে রাখতে পারেন। এই প্রাচীন ও প্রমাণিত পদ্ধতিতে খাবার দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া সহজে আক্রমণ করতে পারে না। তবে খাবার ফ্রিজে রাখার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। গরম খাবার কখনোই সরাসরি ফ্রিজে ঢোকানো উচিত নয়, এতে ফ্রিজের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে খাবার আরও দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। রান্না সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পরেই তা ফ্রিজে তোলা বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেকেরই অভ্যাস থাকে দুপুরের বেঁচে যাওয়া তরকারির সঙ্গে রাতের তৈরি নতুন খাবার একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করে নেওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুলটি ভুলেও করবেন না। বাসি খাবারের সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া নিমেষের মধ্যে নতুন খাবারটিকেও বিষাক্ত করে তোলে, যা খেলে পেটের সমস্যা বা ফুড পয়জনিং হওয়া নিশ্চিত। এছাড়া বারবার খাবার গরম করার অভ্যাসও ত্যাগ করতে হবে, কারণ এতে খাবারের আসল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সর্বদা টাটকা খাবার তৈরি করাই শ্রেয়।
খাবার ভালো রাখার অন্যতম বড় গোপন ট্রিকস হল পাত্র পরিবর্তন। যে কড়াই বা পাত্রে রান্না হয়েছে, খাওয়ার পর বাকি অংশটি ধুয়ে রাখা অন্য একটি পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে ঢেলে রাখুন। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয়ে কড়া নজর দিতে হবে, খাবার তোলার সময় সবসময় শুকনো এবং পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করুন। হাত বা এঁটো চামচ লাগলে খাবার বেশিক্ষণ ভালো থাকবে না। আর রান্না শেষ হওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরের বা রাতের আহার সেরে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এই সময়ের পর থেকেই বাতাসে থাকা জীবাণু খাবারে বাসা বাঁধতে শুরু করে।
খাবার নষ্ট হয়েছে বুঝবেন কীভাবে?
খাবারের স্বাদ হঠাৎ বদলে যাওয়া বা টক ভাব চলে আসা হল নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। ডাল বা ঝোলজাতীয় খাবার নষ্ট হয়ে গেলে তা থেকে একটি তীব্র টক বা অদ্ভুত দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। এছাড়া যদি ঝোলের ওপর কোনও সাদা আস্তরণ, বুদবুদ কিংবা ছত্রাক দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেটি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। সুস্থ থাকতে এক দিনের বেশি পুরনো বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।