
ইলেকট্রিক প্লাগ (Electric Plug) ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল চার্জার, টিভি, মিক্সার বা ফ্রিজ, সব কিছু চালাতেই প্লাগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্লাগ বোর্ডে গোঁজার আগে আপনি কি কখনও খুব ভালো করে এর পিনগুলো খেয়াল করেছেন? যদি দেখেন, বুঝতে পারবেন কিছু প্লাগের ধাতব পিনের ঠিক মাঝখানে একটা লম্বা চেরা বা কাটা দাগ রয়েছে।
দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও, এই দাগটি কেন থাকে তা কি কখনও ভেবেছেন? অনেকেই মনে করেন, এটা বোধহয় শুধুই একটা স্টাইল বা ডিজাইন। কিন্তু সত্যিটা জানলে আপনিও চমকে যাবেন। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে আপনার এবং আপনার বাড়ির সুরক্ষার বিষয়টি।
স্প্রিং-এর মতো কাজ করে এই নকশা
বিজ্ঞান বলছে, পিতল বা এই ধরনের নির্দিষ্ট ধাতুর তৈরি পিনেই এই লম্বা দাগটা বেশি দেখতে পাওয়া যায়। এই কাটা দাগটির আসল কাজ হল প্লাগের পিনকে একটু নমনীয় বা নরম করে তোলা। ফলে আপনি যখন সকেটের মধ্যে প্লাগটা ঢোকান, তখন ওই পিনের দুই দিক সামান্য চেপে গিয়ে খুব সুন্দরভাবে সকেটের ভেতরে খাপ খেয়ে যায়।
পিনটি যদি একদম লোহার মতো শক্ত হত, তাহলে সকেটের সঙ্গে ঠিকমতো ফিট হতে সমস্যা হতে পারত। এই চেরা দাগটার জন্যই পিনটি অনেকটা স্প্রিং-এর মতো কাজ করে এবং সকেটের ভেতরের চাপের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়।
শর্ট সার্কিট রুখে দেয় সহজেই
বৈদ্যুতিক নিয়ম বা ইলেকট্রিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড (Electrical Standard) অনুযায়ী, প্লাগ আর সকেটের মধ্যে সংযোগ খুব মজবুত হওয়া দরকার। যদি প্লাগ আর সকেটের সংযোগ ঢিলে হয়, তাহলে বিদ্যুৎ চলাচলে বাধা তৈরি হয়। আর তখনই সংযোগস্থলে মারাত্মক তাপ তৈরি হয়।
এই অতিরিক্ত গরম হওয়ার ফলে প্লাগ পুড়ে যেতে পারে। এমনকি শর্ট সার্কিট হয়ে গোটা বাড়িতে আগুনও লেগে যাওয়ার ভয় থাকে। ওই ছোট্ট চেরা দাগটি পিনকে সকেটের সঙ্গে শক্ত করে ধরে রাখে। ফলে বিদ্যুৎ চলাচল মসৃণ হয় এবং শর্ট সার্কিটের ভয় অনেকটাই কমে যায়।
সব প্লাগে কি এই দাগ থাকে?
তবে খেয়াল করলে দেখবেন, সব কোম্পানির প্লাগে কিন্তু এই দাগ থাকে না। কোন প্লাগে কেমন পিন থাকবে, তা নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের নিয়ম এবং সকেটের নকশার ওপর। কোথাও কোথাও আবার পিনের বদলে সকেটের ভেতরের অংশটাই স্প্রিং-এর মতো তৈরি করা হয়।
যদি কখনও দেখেন প্লাগ সকেটে ঢিলে হয়ে রয়েছে বা প্লাগের গায়ে পোড়া দাগ দেখা গিয়েছে, তবে সেই প্লাগ আর একদম ব্যবহার করবেন না। একটু সাবধান হলেই অনেক বড় দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।